• Home »
  • Deutsche-Welle-Article »
  • ‘‘ব্লু কার্ড’’ সম্পর্কে বিদেশি ছাত্ররা কী বলেন?

‘‘ব্লু কার্ড’’ সম্পর্কে বিদেশি ছাত্ররা কী বলেন?

 
Frau, die eine Kreditkarte mit dem Eurosymbol zeigt. Symbolbild Blue Card EuropaKonkurrenz zur Greencard der USA. picture-alliance/chromorange

তরুণ, উচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন বিদেশিরা জার্মানিতে থাকতে পারবে, কাজ করতে পারবে, ‘‘ব্লু কার্ড’’ ভিসা চালু করার উদ্দেশ্যই হল তাই৷ গত পয়লা আগস্ট থেকে এই ভিসা চালু হয়েছে ইইউ-বহির্ভূত দেশগুলি থেকে আগতদের জন্য৷

গেরহার্ড সেল্স’এর বয়স ১৯ বছর, অ্যালাস্কার এই ছেলেটির বহু বছর ধরে একটি স্বপ্ন আছে৷ তিনি জার্মানিতে থাকবেন এবং কাজ করবেন৷ একেবারে ছোটবেলা থেকেই গেরহার্ড জার্মানিতে আসছে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার জন্য৷ এবং এখন সে এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চায়৷ ব্লু কার্ডের ফলে তার এই স্বপ্ন এখন তার হাতের কাছে এসে গেছে:

‘‘আমার এখানে পড়ার এবং কাজ করার ইচ্ছে আছে৷ এমএ পাস করার পর আমি এখানে একটা চাকরি খুঁজতে চাই৷ এখানে বহু মানুষ আছে, অ্যালাস্কার মতো জনশূন্য নয়৷ আমি এখানে নতুন মানুষজনের সঙ্গে আলাপ করতে চাই, নতুন ধ্যানধারণার সঙ্গে পরিচিত হতে চাই৷ আমার জার্মানিতে আসার সেটাই প্রধান কারণ৷”

বন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোপ-বহির্ভূত দেশ থেকে আগত বহু ছাত্রছাত্রী গেরহার্ডের মতোই জার্মানিতে থাকতে চায়৷ কিন্তু ভিসা সংক্রান্ত আমলাতন্ত্রের ফলে তারা প্রায়শই হতাশ হয়ে পড়ে৷ ‘‘ব্লু কার্ডের” ফলে সবকিছু আরো সহজ হওয়ার কথা৷ প্রথম শর্ত: স্নাতক পর্যায়ের একটি জার্মান, অথবা জার্মানিতে স্বীকৃত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকতে হবে৷ দ্বিতীয়ত, বছরে গড়ে ৪৪,৮০০ ইউরো বেতনের চাকরি থাকা চাই৷ তাহলে আবেদনকারী চার বছর অবধি মেয়াদের ভিসা পেতে পারে৷ এই হল ব্লু কার্ড৷ প্রযুক্তিবিদ বা বিজ্ঞানীদের ক্ষেত্রে মাইনে আরো কম হলেও চলবে, কেননা জার্মানিতে এ’ধরণের কর্মী প্রয়োজন৷ ব্লু কার্ড সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের যথেষ্ট কৌতূহল, বলেন উলরিশ গ্রোথুস, যিনি ডিএএডি বা জার্মান শিক্ষায়তনিক বিনিময় সেবার সচিব:

‘‘বিশেষ করে দু’টি দিক থেকে খোঁজখবর করা হয়: যারা এখানে পড়াশুনো শেষ করে এখন এখানে কাজ করার রাস্তা খুঁজছেন৷ তবে আমাদের কাছে আরো গুরুত্বপূর্ণ হল যারা এখানে পড়াশুনা করতে চায়, অর্থাৎ যারা বিদেশে স্কুল কিংবা কলেজ শেষ করে এবার জার্মানিতে আসার কথা ভাবছে৷ তাদের কাছে এটা জানা খুবই জরুরি, তারা পড়াশুনো শেষ করার পর জার্মানিতে থেকে এখানে কাজ করতে পারবে কিনা৷”

পড়াশুনা শেষ করার পর জার্মানিতে থাকার জন্য এক বছরের মধ্যে একটি চাকুরি খুঁজে পেতে হবে৷ তারপর আবেদনকারী ১৮ মাস সময় পাবে যেখানে ইচ্ছে কাজ করে অর্থোপার্জন করার৷ যাদের ব্লু কার্ড আছে, তারা দু’তিন বছরের মধ্যেই দীর্ঘমেয়াদি ভিসা পেতে পারে৷ এর কারণ, আগে আমলাদের খোঁজখবর নিয়ে দেখতে হতো, আবেদনকারী যে কাজটি করেন, তার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো সুযোগ্য নাগরিক পাওয়া যায় কিনা৷ সেটা যেমন সমস্যাকর, তেমনই সময়সাপেক্ষ ছিল৷ এখন এই ‘অগ্রাধিকার পরীক্ষা’ তুলে নেওয়া হয়েছে৷

ব্লু কার্ড বস্তুত যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডের একটি ইউরোপীয় সংস্করণ৷ যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা থেকে আগত ভ্যানেসা ভ্যানলারেন খুবই খুশি যে, এবার তাঁর প্রিয় দেশ জার্মানিতেও গ্রিন কার্ডের মতো একটি কার্ড চালু হয়েছে৷ স্কুলে পড়ার সময়েই ভ্যানেসা এক বছর জার্মানিতে কাটিয়েছে৷ পরে স্বদেশেই জার্মান শিখেছে৷ তার মুশকিল হল:

‘‘মিনেসোটার স্কুল-কলেজে জার্মান শেখানো হয় না, কাজেই আমার জার্মানে বিএ নিয়ে আমি সেখানে কিছুই করতে পারব না৷ কিন্তু ব্লু কার্ড নিয়ে আমি হয়তো জার্মানিতে এসে এখানে কাজ করতে পারব৷”

উলরিশ গ্রোথুসেরও আশা যে, ব্লু কার্ডের ফলে জার্মানিতে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের সংখ্যা বর্তমানে বছরে দশ থেকে পনেরো হাজার থেকে আরো বাড়বে৷ যদিও জার্মানিতে দক্ষ কর্মীর অভাব দূর করার জন্য ব্লু কার্ড একাই যথেষ্ট নয় বলে তাঁর ধারণা৷ তবে ব্লু কার্ডের ফলে জার্মানি বিদেশিদের পক্ষে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বৈকি:

‘‘ব্লু কার্ড নিয়ে এখানে যারা আসবেন, তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হল, জার্মান রাজনীতির তরফ থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত যে, জার্মানরা মুক্তমনা, তারা বিভিন্ন দেশ-জাতি-ধর্মের মানুষদের সঙ্গে একসঙ্গে বাস ও কাজ করতে আগ্রহী৷”

► ► ব্লু কার্ড সাপেক্ষে আরো জানতে ক্লিক করুন এখানে।

প্রতিবেদন: নিনা ট্রয়ডে / এসি
সম্পাদনা: জাহিদুল হক

সোর্সঃ dw.de

Print Friendly