• Home »
  • Deutsche-Welle-Article »
  • ‘ব্লু কার্ড’ নিয়ে জার্মানিতে আসছেন বিদেশি কর্মীরা

‘ব্লু কার্ড’ নিয়ে জার্মানিতে আসছেন বিদেশি কর্মীরা

 

জার্মানির শিল্প ও বাণিজ্য জগত প্রায় প্রতি দিনই পারদর্শী কর্মীর অভাবের অভিযোগ করে৷ সেই অভাব মেটাতে ‘ব্লু কার্ড’এর মাধ্যমে ইউরোপের বাইরে থেকে বিদেশি কর্মী আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷

সুবর্ণ সুযোগ

‘‘আমার নাম দৌতামেত রেইয়েপভ৷ আমি দু’মাস ধরে জার্মানিতে আছি৷ আমি জার্মানিকে ভালোবাসি৷” ব্যস, ৩০ বছর বয়স্ক তুর্কমেনিস্তানের এই ইঞ্জিনিয়ার জার্মান ভাষায় এ ছাড়া অন্য কিছু বলতে পারেন না৷ গত অগাস্ট মাসে তিনি সবে জার্মানির হামবুর্গ শহরে এসেছেন৷ জার্মানির বিশাল জ্বালানি কোম্পানি আরডাব্লুই’তে চাকরি করছেন৷ বাকি কথা ইংরাজি ভাষায় বললেন, ‘‘কোম্পানি তুর্কমেনিস্তানে এক গবেষণা প্রকল্প চালাচ্ছে৷ আমি ভাবলাম, সেখানে কাজ করতে পারলে মন্দ হয় না৷ হ্যাঁ, প্রথমে আমাকে হামবুর্গে থাকতে হবে৷”

রেইয়েপভ পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিশেষজ্ঞ৷ প্রথমে জার্মানিতে এসে ধরে নিয়েছিলেন, এক বছরের ভিসা পাবেন৷ এখন জানতে পেরেছেন, যে চাকরি বজায় থাকলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ব্লু কার্ড’এর মাধ্যমে কয়েক বছরের মধ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবেন৷ শুনে বেশ খুশি তিনি৷ তাঁর মতে, এর ফলে অনেক বেশি নিশ্চিন্ত হওয়া যায়৷ বছর দুয়েকের মধ্যে জার্মান ভাষাটা রপ্ত করতে পারলে পাকাপাকি জার্মানিতে থাকার অধিকারও পাওয়া যায়৷ এর ফলে বাড়তি উৎসাহও পাওয়া যায়৷

‘ব্লু কার্ড’ নিয়ে জার্মানিতে আসছেন বিদেশি কর্মীরা

ভাষা জানার সুবিধা

জার্মান ভাষাজ্ঞান যথেষ্ট না হওয়া সত্ত্বেও যদি চাকরি বজায় থাকে, তাহলে পাকাপাকি জার্মানিতে থাকার অধিকার পেতে দুইয়ের বদলে তিন বছর লাগে৷ দৌতামেত রেইয়েপভ সেই ১৬৩ জনের একজন, যাঁরা অগাস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে হামবুর্গে ‘ব্লু কার্ড’ হাতে পেয়েছেন৷

গোটা জার্মানিতে এখনো পর্যন্ত কতজন ‘ব্লু কার্ড’ পেয়েছেন, তা এখনো জানা যায় নি৷ হামবুর্গ শহর কর্তৃপক্ষ এমন পারদর্শী বিদেশি কর্মীদের জন্য এক ‘ওয়েলকাম সেন্টার’ গড়ে তুলেছে৷ সেখান থেকেই বেশিরভাগ ‘ব্লু কার্ড’ দেওয়া হয়েছে৷ দেখা গেছে, ভারতীয়রাই সেখানে সবচেয়ে বেশি খোঁজখবর নিয়েছে৷ ‘ওয়েলকাম সেন্টার’এর প্রধান বিয়ার্টে স্টেলার এ প্রসঙ্গে বলেন, বন্দর, জাহাজ কোম্পানি ও বিমান চলাচল তো বটেই, পুনর্নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন পড়ছে৷ এছাড়াও লজিস্টিক্স, লাইফ সাইন্স, ইন্টারনেটের মতো ক্ষেত্রেও এমন চাহিদা দেখা যাচ্ছে৷

কম বেতনে ভালো কর্মী

দক্ষ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিদেশি কর্মীদের চাহিদার পেছনে আরও একটি কারণ রয়েছে৷ ‘ব্লু কার্ড’ আইন অনুযায়ী বিদেশি কর্মীদের বছরে কমপক্ষে ৪৪,৮০০ ইউরো বেতন দিতে হবে৷ বিজ্ঞানী, ডাক্তার ও তথ্য প্রযুক্তি সংক্রান্ত কিছু পেশায় সেই ঊর্ধ্বসীমা আরও কম, বছরে ৩৫,০০০ ইউরোর মতো৷ অর্থাৎ জার্মানিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রচলিত বেতন কাঠামোর তুলনায় কিছুটা সস্তায় বিদেশিদের চাকরি দেওয়া সম্ভব৷

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সমস্যা

এর পরেও চাহিদা অনুযায়ী ‘ব্লু কার্ড’ দেওয়া যাচ্ছে না৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ব্লু কার্ড’ সংক্রান্ত আইনে যোগ্যতা হিসেবে যেভাবে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তা একটা বড় বাধা৷ ৫ বছর কাজের অভিজ্ঞতাকেও যদি যোগ্যতা হিসেবে মেনে নেওয়া যায়, তাহলে আরও লোক আনা যাবে৷ জার্মান শ্রম মন্ত্রণালয় অবশ্য তার কোনো প্রয়োজন দেখছে না৷

হামবুর্গের শ্রমমন্ত্রী মনে করেন, এটা একটা মারাত্মক ভুল৷ তাঁর কথায়, ‘‘আমার বিশ্বাস, আমাদের আগেভাগে সক্রিয় হওয়ার কথা ভাবতে হবে৷ তাই এর উপযুক্ত প্রস্তুতি নেওয়া উচিত৷ তবে শর্ত হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ও কাজের অভিজ্ঞতাকে সমকক্ষ করার অর্থ এই হওয়া উচিত নয়, যে পেশাগত প্রশিক্ষণকে খাটো করে দেখা হবে৷

সার্বিক সুবিধা

তবে বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও হামবুর্গ শহরের ‘ওয়েলকাম সেন্টার’এর প্রধান বিয়ার্টে স্টেলার বর্তমান প্রবণতা দেখে মোটামুটি সন্তুষ্ট৷ তাঁর মতে, ‘ব্লু কার্ড’এর আওতায় পরিবারের সদস্যরা যেভাবে চাকুরিপ্রার্থীর সঙ্গেই জার্মানিতে প্রবেশ করতে পারেন ও কাজ করার অধিকার পান, সেটা বেশ ইতিবাচক বিষয়৷ দৌতামেত রেইয়েপভ যেমন তাঁর ২৭ বছর বয়স্ক অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে জার্মানিতে এসেছেন৷ জার্মানিতেই তাঁদের সন্তান জন্মগ্রহণ করবে৷ তবে শুধু এই কারণেই তারা জার্মানিতে পাকাপাকি থাকতে পারবেন, এমন কোনো নিয়ম নেই৷

সবাই যে জার্মানিতে পাকাপাকি বসবাস করতে চান, তাও নয়৷ যেমন দৌতামেত রেইয়েপভ এর আগে সপরিবারে আফ্রিকায় থেকেছেন৷ তাঁর স্ত্রী জানালেন, তাঁরা এখন হামবুর্গে এসেছেন বটে, কিন্তু কে জানে, দু-তিন বছরের পর হয়তো অন্য কোথাও চলে যাবে তাঁর পরিবার৷ এমন মানুষের জন্যও ‘ব্লু কার্ড’ বেশ উপযুক্ত৷ কারণ শুধু জার্মানি নয়, ‘ব্লু কার্ড’ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে কোনো দেশেই বসবাস বা চাকরি করার সুযোগ রয়েছে৷

ব্লু কার্ড রেগুলেশন নিয়ে আরও জানতে এখানে ক্লিক করুন।

.

প্রতিবেদন: কাটরিন এয়ার্ডমান/এসবি

সম্পাদনা: জাহিদুল হক

Original source: dw.de

Print Friendly, PDF & Email