জার্মানির পথে-৩ জার্মানিতে ব্যাচেলর- প্রতিকূলতা বনাম সম্ভাবনা

 

দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে অনেক বাবা মা-ই তাদের সদ্য এইচএসসি পাশ করা ছেলেদেরকে (মেয়েদের বেলাতে এখনও খুব কম শোনা যায়) জার্মানিতে পাঠানোর জন্য উৎসাহিত করে থাকেন। বেশ কিছু ছেলে পেলে আবার নিজের তাগিদেই ভাষা শেখা শুরু করে, স্বপ্ন দেখে জার্মানিতে এসে ভাষার চ্যালেঞ্জ নিয়ে ব্যাচেলর শেষ করার। বিসাগ গ্রুপে আমাদের কাছে অনেক ছেলে মেয়ে প্রশ্ন করে, জার্মানিতে ব্যাচেলরে আসতে কি কি প্রয়োজন জানতে। আমরা বলি বিএসসি দেশে শেষ করে আসতে পারলে ভাল হয়। একই সাথে ভাষা শেখা ও মাস্টার্সের জন্য প্রস্তুতি নিতে।

আমাদের এই পরামর্শ অনেকেরই পছন্দ হয় না, কেউ কেউ ভাবে আমরা তেমন কোন কারণ ছাড়াই চাই না তারা ব্যাচেলর করতে আদৌ জার্মানিতে আসুক। এদের সিংহভাগ ছেলেরা লাইন ধরে এজেন্সির দরজায়, পা দেয় তাদের পাতা সুমিষ্ট কথার ফাঁদে। আগে যেয়ে নেই জার্মানিতে, তারপর দেখা যাবে – এমন ভাব নিয়ে এরা লক্ষ টাকার কন্ট্রাক্ট সাইন করে। শুধু এজেন্সির হাত থেকে বাঁচানোর থেকেও যেটা বেশি দরকারি মনে করি আমরা, সেটা হল এইসব ছেলেদের কাছে ব্যাচেলরের বাস্তব অবস্থা ব্যাখ্যা করা। আমরা বলি না যে ব্যাচেলরে আসা যাবেই না, তবে অন্তত যেন তারা জেনে আসে এখানে আসার পর কি কি প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে এই লেখার অনুপ্রেরণা।

এই সিরিজের অন্যান্য পর্ব

১ নতুন পরিবেশ

প্রথমত বলতে হবে আমাদের ম্যাচুরিটি বা মানসিক পূর্ণতা এবং আত্মনির্ভরতা নিয়ে। আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা সামাজিক ভাবে সাধারণত অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে বড় হয়। বিশেষ করে কায়িক পরিশ্রমের উপর প্রায় সবারই একটা বিদ্বেষ আছে। ছেলেরা ঘরের রান্না করছে – এটা বাংলাদেশের কয়টা পরিবারে দেখা যায়? একজন মানুষের মানসিক পূর্ণতা তৈরি হয় তার দায়িত্ব নেবার ক্ষমতা থেকে, যার শুরু হয় প্রথমে নিজের দায়িত্ব নেয়া থেকে। দেশে থাকলে এটা টের পাওয়া যাবে না। বিদেশে আসার পর নিজের বাথরুম থেকে শুরু করে রান্নার পর এঁটো বাসন পরিষ্কার পর্যন্ত দিনের প্রতিটা কার্যক্রম যখন নিজের হাতে করতে হয়, তখন সেই জীবন অনেকেরই বিভীষিকাময় লাগতে শুরু করে। দেশে যেমন কোনকিছুই নিয়ম মেনে চলে না, বিদেশের তেমন প্রতিদিনের প্রতিমুহুর্তের কর্মকাণ্ডই নিয়ম ও সময় মেনে চলে – এর সাথে খাপ খেয়ে তার পাশাপাশি নিজের পড়াশোনা নিজে করার মতন মানসিক শক্তি বেশীরভাগ সদ্য স্কুল কলেজ পাস করে বের হওয়া ছেলেমেয়ের মধ্যে অনুপস্থিত।

পরিবেশের সাথে মানিয়ে চলার সাথে সাথে একইসাথে মুখোমুখি হতে হয় নিজের পড়া নিজে করে নেবার চ্যালেঞ্জের। এখানের পড়াশোনা মুখস্থ বিদ্যা দিয়ে পার করা যায় না, বিশেষ করে টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে পড়ার জন্য দরকার কনসেপ্ট গড়ে নেবার অভ্যাস তৈরি করা। শুধু পরীক্ষার আগের রাত পড়ে এখানে পাস করা যায় না। কনসেপ্ট তৈরি হয় তখনই যখন দৈনন্দিন রুটিন মাফিক ক্লাস ও ল্যাব-ওয়ার্ক ফলোআপ করা হয়। কোনমতে শুধুমাত্র পাস করার কথা ভাবলে ভুল হবে, এই দেশে “কোনমতের” তেমন কোন দাম নেই। আমাদের দেশে স্কুল ও কলেজের বেশীরভাগ ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারিক জ্ঞান খুব কম। অংক কিভাবে কষতে হয়, ফিজিক্সের সূত্র প্রায় সবাই জানে। কিন্তু যদি বলা হয়, কেন এই অংক করা কিংবা কেন এই সূত্র আমাদের দরকার, তাহলে বেশীরভাগ ছেলেপেলেই উত্তর দিতে হিমশিম খেয়ে যায়। শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বিদ্যার ব্যবহার ও তার বাস্তব প্রয়োগকে কেন্দ্র করে হবে এখানকার পড়াশোনা। কারোও জন্য এটা ভাল খবর হতে পারে, কারোর জন্য হয়তো মন্দ। তবে সবারই এই মানসিক প্রস্তুতি থাকতে হবে – এটাই মূল বক্তব্য।

২ ভাষা

অন্যান্য অনেক দেশের চেয়ে, বিশেষ করে ইংরেজি ভাষাভাষী দেশগুলোর চেয়ে জার্মানিতে ব্যাচেলর পড়া আমাদের ছাত্রদের জন্য আরেকটু কঠিন হবে, তার কারণ জার্মান ভাষা। আমরা অনেক বছর ধরে ইংরেজি শিখি স্কুল কলেজে, তারপরও বিদেশে আসা বেশীরভাগ ছেলেপেলেই ইংরেজি কথা বলতে গিয়ে তোতলামি করে। শুধুমাত্র নম্বর বেশি পাবার দেশীয় শিক্ষা পদ্ধতি আমাদেরকে বিদেশ জীবনে ইংরেজিতে কথা বলার মতন উপযোগী করে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। এই বাস্তবতার মধ্যে ব্যতিক্রম আছে, অনেক ছেলেপেলে বিদেশে এসে ধীরে ধীরে ইংরেজিতে কথা বলার দুর্বলতা কাটিয়ে উঠে। তবে পয়েন্টটা হচ্ছে, যেখানে ১০-১২ টি বছর দেশে ইংরেজি শিখেও আমাদের অনেক দুর্বলতা থেকে যায় সেই ভাষার প্রয়োগে এসে, সেখানে সম্পূর্ণ নতুন একটা ভাষা শেখা দুর্বহ হবারই কথা। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, জার্মান ভাষা ইংরেজির থেকে অনেক বেশি কঠিন, বিশেষ করে এই ভাষার ব্যাকরণ।

জার্মান ভাষা যারা দেশে অন্তত দুই বছর না শিখে জার্মানিতে আসার পরিকল্পনা করছে, তাদের জন্য সতর্ক সংকেত! একদিকে যেমন জার্মানিতে থাকা অবস্থায় ভাষা শেখা তুলনামূলক ভাবে সহজ, একইসাথে মনে রাখতে হবে এটা অতীব ব্যয়বহুলও বটে। এখানে ভাল ভাষা শেখার কেন্দ্রে কোর্স করতে মাসে ৫০০ ইউরো পর্যন্ত গুনতে হয়। তবে এটা মনে রাখা দরকার যে, ভাষা শেখার ইন্সটিটিউটে ভর্তি হলেই ভাষা শেখা যায় না, এর জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায়। যারা ভাবছে, এখানে এসে জব করে সেই টাকা দিয়ে ভাষা শিখে নেবে, তারা বড় রকমের ভুল করবে। সত্যিকার অর্থে ভাষা শেখার জন্য যে পরিমাণ পরিশ্রম প্রয়োজন, তাতে অন্য কাজ করার সময় পাবার কোন কারণ নেই। বিশেষ করে যারা তেমন কিছু না শিখে এখানে আসার কথা ভাবছে। আরেকটা ব্যাপার বলা প্রয়োজন। বাংলাদেশের জার্মান ভাষা শেখার মধ্যে একটু ফাঁক আছে। সেটার কারণ মূলত ওখানের নন-জার্মান-স্পিকিং টিচাররা। বাংলাদেশে বাংলাদেশী টিচার থাকবেন- এটা স্বাভাবিক, তবে দেশে ভাষা শিখে যারা আসছে, তাদের মনে রাখতে হবে তাদের সার্টিফিকেটের লেভেল ৯৫% ক্ষেত্রেই জার্মানির সার্টিফিকেটের সমান হবে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, যারা দেশে বি-ওয়ান (B1) শেষ করছে, তাদের ল্যাংগুয়েজ স্কিলকে জার্মানির মানে এ-টু (A2) ধরা যেতে পারে। আসল কথা হল, সত্যিকার ভাষার পারদর্শিতা। এবং সেটা হঠাত করে যেমন হয় না, তেমনি এই চ্যালেঞ্জকে ঠুনকো ভাবার কোন কারণ নেই।

ব্যাচেলর করতে যারা আসতে চায়, তাদের প্রথমেই দেশে ভাষা শেখার পেছনে প্রচুর পরিমাণ সময় দিতে হবে। ভাষা শেখাকে ফাঁকি দিয়ে এখানে এসে লাভ হবার চেয়ে বরং ক্ষতি হবার সম্ভাবনাই বেশি। একটা আর্গুমেন্ট ইদানীং শুনতে পাই, সেটা হল কিছু কিছু ইউনিভার্সিটি ইংরেজি ভাষায় কোর্স অফার করছে ব্যাচেলর লেভেলে। তাহলে কি আর জার্মান ভাষার দরকার নেই? এখানে কয়েকটা ব্যাপার বোঝার দরকার আছে। জার্মানিতে জার্মান ভাষায় না পড়ে অন্য ভাষায় পড়ার তেমন ফিউচার নেই। ধরা যাক, কেউ যদি অটোমোটিভ ইলেকট্রনিক্সে জার্মানিতে কাজ করতে চায়, সে কাজ করতে গেলে তাকে গাড়ির টেকনিক্যাল টার্ম গুলো জার্মান ভাষায় জানতে হবে। খেয়াল করার ব্যাপার হল, জার্মান ভাষার টেকনিক্যাল টার্মগুলো ইংরেজি থেকে একেবারেই ভিন্ন এবং জার্মানরা আমাদের মতন ইংরেজি শব্দ ব্যাবহার করে না। দ্বিতীয়ত, যারাই ইংরেজিতে ব্যাচেলর করতে আসবে, তাদের সিংহভাগই জার্মান ভাষা শেখার একটা অনীহা কাজ করবে। ফলাফল হতে পারে এমন যে, অনেক বছর ধরে ইংরেজিতে ব্যাচেলর করে যদি শেষ পর্যন্ত এখানে সেটল না হতে পারা। আসল বক্তব্য হল, ব্যাচেলর ইংরেজিতে হোক আর জার্মান ভাষায় হোক, এই দেশে ক্যারিয়ার গড়তে হলে কোন অবস্থাতেই জার্মান ভালমতো ভাষা শেখার দায়ভার এড়ানো যাবে না।

৩ যোগ্যতা

যারা বাংলাদেশ থেকে এইচএসসি (বা সমমানের পরীক্ষা) পাশ করেছে, জার্মান ভাষায় বিএসসি পড়ার জন্য তাদের প্রয়োজন টেস্ট-ডাফ পরীক্ষা (অথবা সমমানের সার্টিফিকেট যেমন “DSH”) এবং স্টুডেন্টকলিগ (প্রস্তুতিমূলক বা প্রিপারেটরি কোর্স, বিস্তারিত জানতে: www.studienkollegs.de/en/) পাস করা। টেস্ট-ডাফ বা DSH কে ভাষার পরীক্ষার মানে টোফেল বা আইএলটিএস সমকক্ষ হিসেবে তুলনা করা যেতে পারে। স্টুডেন্টকলিগ ও ভাষা শেখার শেষে একটা এসেসমেন্ট পরীক্ষা দিতে হয়, শুধুমাত্র এই পরীক্ষায় যারা পাশ করবে তারাই ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করবে। এই মুহূর্তে ড্রেসডেন ও গ্লাউশাউ ছাড়া অন্য আর কোন স্টুডেন্টকলিগ ট্রেনিং কেন্দ্রে কোন ফি দিতে হয় না। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, স্টুডেন্টকলিগ শেষ করতে ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগে। যারা আগে থেকেই দেশ থেকে ভালমতো ভাষা শিখে আসে, তাদের জন্য এই সময়কাল ১ থেকে ২ বছরে নেমে আসতে পারে। ইংরেজিতে ব্যাচেলর করতে চাইলে DSH পরীক্ষা দিতে হবে না, তবে স্টুডেন্টকলিগ পাশ করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই টোফেল বা সমমানের সার্টিফিকেট চাওয়া হয়। এক এক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির জন্য একেক রকম রিকুয়ারমেন্ট থাকে, সেটা ভার্সিটির ওয়েব সাইট থেকে দেখা নিতে হবে।

খরচ ও জব

ব্যাচেলর শিক্ষা জার্মানির প্রায় সকল ইউনিভার্সিটিতেই ফ্রি। একারণে খরচ বলতে যেটা বোঝায় সেটা হল মাসিক চলার খরচ। যারা ভাষা শিখতে চাইবে, তাদের জন্য ভাষার ফি যোগ করতে হবে। মাসিক খরচের পরিমাণ শহর ভেদে গড়ে ৫০০ ইউরোর মতন পড়তে পারে। মনে রাখতে হবে, ব্যাচেলর স্টাডি দীর্ঘ একটা প্রক্রিয়া। কেউ যদি ভাষাসহ পুরো ব্যাচেলর জার্মানিতে শেষ করতে চায়, তার জন্য কমপক্ষে ৫-৬ বছর প্ল্যান করতে হবে (এখানে ধরে নেওয়া হচ্ছে সব কোর্স ও পরীক্ষা সময়মত পাস করা হবে –এই সাপেক্ষে)। প্রায় সব শহরেই এখন ব্লক একাউন্ট করতে হয়, যার পরিমাণ বছরে প্রায় ৮,০০০ ইউরো। ৫ বছর ধরে এই বিপুল পরিমাণ খরচের নিয়মিত যোগান দেয়া খুব সহজ কাজ নয়। আরও খেয়াল রাখতে হবে যে, ভাষা শেখার সময় ভার্সিটিতে ভর্তির আগ পর্যন্ত প্রাইভেট বাসা নিজে খুঁজে বের করতে হয় এবং বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই স্টুডেন্ট হোস্টেলের থেকে অনেক বেশি খরচে থাকতে হয়।

ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট হবার পর যেখানে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে খুব কম খরচে চলাফেরা সম্ভব, সেখানে ল্যাংগুয়েজের ছাত্রদের কয়েকগুণ বেশি পয়সা দিয়ে টিকেট কাটতে হয়। অনেকেই স্বপ্ন দেখে অড-জব করে খরচ পোষানোর কথা। অভিজ্ঞতা বলে অড-জব করে হয়তো কিছু খরচ পোষানো সম্ভব, কিন্তু ধারাবাহিকভাবে বছরের পর বছর পড়াশোনার পাশাপাশি জব করে খরচ পোষানো প্রায় অসম্ভব কল্পনা। মাস্টার্স স্টুডেন্টরা যেমন ইউনিভার্সিটিতে রিসার্চ জব পায়, সেটা ব্যাচেলর স্টুডেন্টদের জন্য সম্ভব নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য প্রথম দুই বছরের কোর্স শেষ করার পর এই জাতীয় জব পাওয়া যেতে পারে। তারপরও পড়ার পাশাপাশি যে অবসর সময় পাওয়া যায়, সেখানে কাজ করে হয়তো মোট খরচের ৫০ শতাংশ আয় করা যেতে পারে। পুরো খরচও কোন কোন ক্ষেত্রে তোলা সম্ভব, তবে সেই ক্ষেত্রে পড়াশোনা ঠিক থাকবে না, সেটা প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়। সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার হল, প্রথম দুই বছর টিকে থাকা। যারা ভাষা শিখতে আসে, তাদের জন্য কোন ওয়ার্ক পারমিট থাকে না। স্টুডেন্টকলিগ পাস করে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবার পরই শুধুমাত্র নরমাল স্টুডেন্ট কাজের পারমিট পাওয়া যায় (বছরে ১২০ দিন)। কোন কোন শহরে ভাষা শেখার সময়ও কাজের পারমিশন পাওয়া যায়, শুধুমাত্র ছুটি চলাকালীন সময়ে। তবে কাজের পারমিট পাওয়া আর কাজ পাওয়া এক নয়। যেহেতু ব্যাচেলর লেভেলে ছাত্রছাত্রীরা সাধারণত কোন বিষয়ে দক্ষ নয়, তাদেরকে অড জব খুঁজতে হয়, এবং অড জবের জন্য যেটা প্রয়োজন তা হল ভাষার দক্ষতা।

পরিশেষ

ব্যাচেলরে জার্মানিতে পড়তে আসার জন্য সবচেয়ে বড় ব্যারিয়ার ভাষা এবং পড়ার পাশাপাশি খরচ চালিয়ে যাওয়া। যারা দেশে কয়েক বছর ভাষা শিখে ও জার্মানির কালচার বুঝে অন্তত প্রথম দুই বছরের খরচ নিয়ে আসতে পারবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনার মোটিভেশন ধরে রাখতে সক্ষম, তাদেরই শুধুমাত্র জার্মানিতে ব্যাচেলর পড়তে আসা উচিত। এদের ভবিষ্যতে সফল হবার সম্ভাবনা মাস্টার্স স্টুডেন্টদের থেকেও অনেক ভাল, কারণ এরা পড়াশোনা শেষ করবে ভাষা ও লোকাল কালচারে অভ্যস্ত হয়ে। ইংরেজি স্পোকেন দেশগুলির সাথে যদি তুলনা করা যায়, তাহলে জার্মানিতে ব্যাচেলর করা অনেক অনেক গুন ভাল সিদ্ধান্ত দুইটি কারণে। প্রথমত বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে কোন টিউশন ফি দিতে হয় না, এবং এদেশে পাস করার পর চাকরির বাজার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক ভাল। তবে একটাই পূর্বশর্ত, জার্মান ভাষা জানা!

আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, বেশীরভাগ ছেলেপেলেই পূর্বপ্রস্তুতি না নিয়ে শুধুমাত্র একটা ভিসা নিয়ে ইউরোপে পাড়ি দেবার আশায় এখানে আসতে চায়। এদের জন্য অপেক্ষা করছে চরম দুর্ভোগ। একদিকে ভাষা জানা ছাড়া এখানে যেমন বাসা পাওয়া থেকে শুরু করে জব পাওয়া পর্যন্ত সব জায়গাতেই এদের স্ট্রাগল করতে হবে, অন্যদিকে জব খোঁজা, ভিসার মেয়াদ শেষ হবার টেনশন ইত্যাদিতে ঠাণ্ডা মাথায় পড়ার টেবিলে বসার সময়ও এদের হয়ে ওঠে না। এরা যেমন নিজেরা এই দেশে এসে সফল হতে পারবে না, তেমনি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও এরা বিফলতার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমাদের কাজ তোমাদের জন্য যতটুকু সম্ভব এখানকার বাস্তবতা তুলে ধরা, বাকিটা তোমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তোমাদের ক্যারিয়ার, তোমাদের জীবন শুধু তোমাদেরই। আমরা শুধু এটাই বলতে পারি, “ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিবার চিন্তাকে ভুলেও প্রশ্রয় দিও না”।

লেখকঃ আদনান সাদেক

#BSAAG_Bachelors 

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার সংক্রান্ত প্রশ্নের জন্য যোগদিন বিসাগের ফেসবুক ফোরামে:   www.facebook.com/groups/bsaag.reloaded
জার্মান ভাষা অনুশীলন এবং প্রশ্নোত্তের জন্য যোগ দিন ফেসবুকে বিসাগের জার্মান ভাষা শিক্ষা গ্রুপেঃwww.facebook.com/groups/deutsch.bsaag

http://wp.me/p2zcv7-1n6

Print Friendly, PDF & Email

ফেসবুক মন্তব্যঃ

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

  1. Pingback: রিভিউ- ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বিসাগের সাপ্তাহিক তথ্যশালার পনেরতম ইভেন্ট। তা

  2. Adnan vai, I would like to take msc in textile eng / polymer snc/material snc degree. I will try to complete A2 in BD. Is it enough to come in germany?

     
  3. Pingback: Information for Bachelor Applicants | বিসাগ (www.BSAAGweb.de)

  4. Adnan Bhai I have five questions regarding this topic.

    No.1 : Can I study in English Medium and learn the language course side by side ?

    No. 2 : About the block account of 8000 Euro, I can withdraw money every month for living cost right ?

    No.3 : If I make a budget for around 50 lacs BDT … will that be sufficient to complete undergrad. level ?

    No.4 : Is it possible to get PR and get good job if I learn German Language well ?

    No.5 : If I want to study in English medium … is it necessary to go through Studienkolleg ?

     
  5. ভাইয়া,আমি অটোমোবাইল ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এ শেষ সেমিস্টারে আছি। আমার ইচ্ছে অটোমোবাইল এ, বি এস সি ইঞ্জিনিয়ারিং
    জার্মানিতে পড়ার,এ ক্ষেত্রে আমি এখন কি করতে পারি এবং এ বিষয়ে পড়া যায় এমন ইউনিভার্সিটি গুলোর নাম জানালে উপকৃত হতাম।
    আর ও না জানা বিষয় এ জানাবেন কি?আল্লাহ হাফেজ।

     
  6. ek jon bachelor Student er per hour 8 Euro te kaj pabar shomvobona kemon ?

    100% , 90%, 80%, 70%,60%, 50%,40%,30%,20%,10% ?

     
  7. ভাই, মাস্টার্স নিয়ে আরও জানতে চাই। আমি বিবিএ করছি – ফাইনাল ইয়ার এ আছি। আমার জার্মান ভাষা জানা নেই, এই অবস্থায় english taught course গুলোতে পরতে গেলে ভাষা শিখবো কিভাবে? আমি ধারনা করছি ওই সময় আমি কোন part-time job করতে পারব না। ভাই আমি সত্যি কথাই বলি, আমি যাওয়ার সময় যা নিয়ে যাব তারপর আর বাসায় pressure দিতে চাচ্ছি না, এমন অবস্থায় আমার জন্য আপনার উপদেশ কি হবে?
    ভাই আরেকটা বিষয়, দেশে এখন অনেকেই বলে যে জার্মানিতে এখন আর ছাত্ররা তেমন জব পায় না – এটা কি সত্যি?
    জানালে খুব ভালো হয় ভাই।

     
    • সব সমস্যার মূল হল একটাই ব্যাপার, সেটা হল জার্মান বলতে না পারা। যারা এই সমস্যার সমাধান করে নিতে পেরেছে, তাদের কখনও পেছন ফিরে তাকাতে হয় নাই।

       
  8. ভাইয়া জার্মানীতে কি ১২০ ঘন্টা কাজ করেও নিজের খরচ চালানো সম্ভব না?????

     
    • মাস্টার্সে প্রচুর পরিমাণে ইংরেজি কোর্স পাওয়া যায়, সেগুলোতে জার্মান ভাষা দরকার নেই। তবে স্টুডেন্ট জব বা পরবর্তিতে ক্যারিয়ারের জন্য ভাষা জানা দরকারি।