• Home »
  • Bachelors »
  • ব্যাচেলরের কিছু কথা এবং আমার অভিজ্ঞতা

ব্যাচেলরের কিছু কথা এবং আমার অভিজ্ঞতা

 

ব্যাচেলরের কথায় যাওয়ার আগে কিছু কথা জানিয়ে রাখি,এটা আমার দ্বিতীয় বার আবেদন করার পরে আমি ভিসা পেলাম।এর আগে ২০১৬-২০১৭ উইন্টার সেশনে আমি এপ্লাই করেছিলাম।তখনকার নিয়ম অনুযায়ী দুই বছর(হাফ ক্রেডিট) পূরন করতে হত।আমার ২য় বছরের রেজাল্ট দিতে ২৬ দিন বাকি ছিল।আমি ভেবে ছিলাম,আমি তাদের মেইল করে তাদের সিচুয়েশন জানালে তারা হয়ত,মানতে পারে।আমি ভুল ছিলাম,ভাবনা আর বাস্ততা এক নয়।রিকোয়ারমেন্ট এ কিছু অপশন আছে যেই গুলা কোনো ভাবেই কনসিডার করা হয় নাহ।এক্ষেত্রে আমার সাজেশন হলো পেপারস সব হাতে আসলে অথবা এপ্লাই শেষ হওয়ার ডেডলাইনের আগেই যেন পেপারস হাতে এসে যায়।

#১_ব্যাচেলরে_পড়ার_আগ্রহীদের_সুখবরঃ
আমরা অনেকেই হয়ত বিসাগের আদনান ভাইয়ের পোস্টের মাধ্যমে জেনে গেছি যে এখন ব্যাচেলরে আগ্রহীগন দেশে এক বছর পড়েই জার্মান ভার্সিটিতে সরাসরি ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে।যেটা আগে দুই বছর ছিল,তখন বড় ভাই এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা ব্যাচেলরে যেতে উৎসাহিত করতেন নাহ। আমার মনে হয় এখন আর কোন দ্বিমত থাকবে নাহ ,জার্মানিতে সরাসরি ব্যাচেলরে পড়ার জন্য।কারন আমরা দেশে থাকতেই দ্বিতীয়বার ভার্সিটি গুলোতে ভর্তি যুদ্ধ করে থাকি।এখন সেটা জার্মান হলে ক্ষতি কি,এক বছর নস্ট হলে।

#২_কোর্স_খোজাঃ
কোর্স খোজা জটিল কিছু নয়।আপনার জন্য সঠিক বিষয় কোনটি সেটা বিসাগের ফাইল সেকশনে দেওয়া আছে,সহায়তা নিতে পারেন।কোর্স খোজার ক্ষেত্রে প্রথমেই আসে আপনি কোন মাধ্যমে পড়তে চাচ্ছেন।আপনার যদি জার্মান ভাষার বি১ করা হয়ে থাকে তাহলেই জার্মান ভাষার কোর্সে এপ্লাই করতে পারবেন।ব্যাচেলরে জার্মান ভাষার কোর্সই বেশি,তবে তার মানে এই নয় ইংলিশ ভাষার কোর্স কম আছে।আইইএলটিএস মিনিমাম ৬.০০(সব গুলোতে) থাকা লাগবে,যদি ভালো কোন ভার্সিটিতে পড়তে চান।

#৩_ভাষার_দক্ষতাঃ
আমি অলরেডি বলে ফেলেছি,জার্মানিতে ব্যাচেলর করার দুইটা মাধ্যম আছে।জার্মান ও ইংলিশ।কোর্সের ভাষা জার্মান হলে তারা আইইএলটিএসের রেজাল্ট দেখতে চাবে নাহ,তার মানে এই নাহ আপনি পাড় পেয়ে যাচ্ছেন।বাংলাদেশের জার্মান এম্বাসির স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করার একটা শর্ত হলো,আইইএলটিএসে কমপক্ষে ৫.৫ থাকতে হবে।(কিন্তু আমার এক ছোট ভাই গেছে স্টুডেন্টকলিগে,ওর কাছে নাকি আইইএলটিএসের কোন ডকুমেন্ট চায় নাই,এটা কিভাবে হলো আমার জানা নাই।)।আপানার কোর্সের ভাষা যদি ইংলিশ হয় তাহলে জার্মান ভার্সিটি এবং জার্মান এম্বাসি কেউ আপানার কাছে জার্মান ভাষার দক্ষতার কোন ডকুমেন্ট চাবে নাহ।তবে যদি করা থাকে তাহলে দিতে পারেন।আমার সাজেশন হলো দেশে থেকেই জার্মান ভাষার এ১ করে যাওয়া।

#৪_মোটিভেশন_লেটারঃ
আপনার একাডেমীক রেজাল্টের পাশাপাশি মোটিভেশন লেটারের গুরুত্ব অনেক।একটা ভালো মোটিভেশন লেটার একটা ভালো সংবাদ বয়ে নিয়ে আসতে সহায়তা করে।আমার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অনেক।নেটে ফরমেট দেওয়া আছে,সহায়তা নিতে পারেন।তবে সব থেকে ভালো হয় যদি আপনার মোটিভেশন লেটার আপনি নিজে লেখেন।আপনার বিষয় নিয়ে আপনার মনের কথা গুলো প্রতিফলিত করেন,সময় নিয়ে ভাবুন কি লিখতে চাচ্ছেন।আপনার কো-অরডিনেটর কে বুঝান আপনি এই বিষয় নিয়ে পড়তে অনেক আগ্রহী, আপনি এই বিষয় নিতে পড়তে পারলে অনেক উপকৃত হবেন।আপনি তার সাহচর্যে থেকে পড়া লেখা করতে চান,আপনি নিজেকে তার সাহচর্যে থেকে পড়তে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করবেন।আপনি এই বিষয়ে পড়ার যোগ্যতা রাখেন,এটা আপনার সপ্নের বিষয়।ছোট বেলা থেকে আপনার স্বপ্ন আপনি এই বিষয়ে পড়বেন,তাই নিজেকে ওই ভাবেই পড়ে তুলেছেন(এটা আমি দিয়েছিলাম)।

 

 

#৫_আবেদন_করার_যোগ্যতাঃ
আপনার পূর্ববর্তী একাডেমীক ফলাফলের উপর নির্ভর করে আপনি কোন ক্যাটাগরির ভার্সিটি থেকে এডমিশন লেটার পাবেন।আপনার অনার্স ১ম বর্ষের রেজাল্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এটা খুব ভালো ভাবে মনে রাখবেন(সম্ভব হলে জার্মান মান অনুযায়ী কনভার্ট করে দেখেন)।আমার মতামত হলো আপনার ফলাফল অনুযায়ী ভার্সিটিতে এপ্লাই করেন,তা নাহ হলে অযথাই রিজেকশন মেইল পেয়ে আত্মবিশ্বাস কমে যাবে,সাথে টাকা তো গচ্ছা যাবেই।এক্ষেত্রে আরেকটা কাজ করতে পারেন,আমি এটা আগে করার জন্য অনুরোধ করবো।আপনি যেই বিষয়ে পড়ার জন্য মনঃস্থির করেছেন,ওই বিষয়ের কোর্স কো-অরডিনেটর এর সাথে কথা বলেন( DAAD কোর্সের ডিটেলস পেজে ডান দিকে কোর্স কো অরডিনেটর কন্টাক্ট মেইল দেওয়া থাকে)।আপনার প্রোফাইল দিয়ে ওই বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে কিনা বা পেতে পারেন কিনা।কোর্স কো-অরডিনেটর আপনাকে সঠিক নির্দেশনা দিয়ে দিবেন,নিশ্চিত থাকেন।বিশ্বাস করেন আর নাই করেন আমাদের দেশের অনেক শিক্ষক আছেন যাদের মেইল আইডি নাই (আমি আন্তরিক সশদ্ধা সম্মানের যায়গা থেকেই বলছি,স্টুডেন্ট শিক্ষক সম্পর্কের জন্য হলেও রাখা উচিত;আমি মনে করি) আবার যাদের আছে তারা নিয়মিত চেক করেন কি না তার নিশ্চয়তা নাই।আমি আমার কোর্স কো-অরডিনেটরকে মেইল করার ২ দিনের মধ্যেই আমাকে রিপ্লাই করেন,তিনি আমাকে বিস্মিত করে দেন।উনি আমাকে শুধু ‘হ্যা’ সূচক জবাবই দেন নাই,সাথে কিভাবে এপ্লাই করতে হয়,এক্সট্রা আর কি লাগবে,ওই বিষয়ের ভবিষ্যৎ কি তাও তিনি জানান।আমি সাথে সাথেই সিদ্ধান্ত নেই আমি এই বিষয়ে পড়বো।

#৬_আবেদন_প্রক্রিয়াঃ
আবেদন প্রক্রিয়া সময় সাপেক্ষ,তবে জটিল নয়।কোর্স রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী পেপারস রেডি করে রাখবেন।সব গুলো কপি আগেই স্ক্যান করে রাখাই উত্তম।যেন চাওয়া মাত্র আপনি দিতে পারেন।এবার আসি তারা যদি হার্ড কপি চায়।লক্ষ্য করবেন,এটাস্টেশন কাকে দিয়ে করাতে বলেছে।যদি বলে জার্মান কনস্যুলেটর দিয়ে করাতে হবে তাহলে, এম্বাসির ওয়েবসাইটে গিয়ে এটাস্টেশন ফর্ম পূরন করে এম্বাসির ২নং গেটে চলে যান,১মাসের মত সময় লাগতে পারে।কিন্তু যদি বলে নোটারি করলেও হবে এবং হাতে সময় কম;তাহলে নোটারি করে ফেলেন।আমার সময় নোটারি করেছিলাম,প্রতি পেজ ১৫ টাকা নিছিলো।
একটা ব্যাপার বিশেষ ভাবে বলতে চাই,এপ্লিকেশন পোর্টাল খোলার পরে যত দ্রুত সম্ভব আবেদন করেন।আগে থেকেই পেপারস রেডি রাখুন।যত আগে এপ্লাই করবেন তত ভালো।যেই সব ভার্সিটি ইউনি এসিস্টের আওতাধীন তাদেরকে ইউনি এসিস্টের মাধ্যমেই এপ্লাই করতে হবে।আবার কিছু আছে সরাসরি এপ্লাই করা যায়।আগে এপ্লাই করলে আপনার পেপারস আগে ভেরিফিকেশন করবে।যদি কোন পেপারস লাগে তারা আপনার কাছে চাবে।পাঠাতে যেয়ে আপনার যক্কি ঝামেলা পোহাতে হবে নাহ,এই গুলা যদি ডেডলাইনের আগে হয়;তাহলে কিন্তু ঝামেলা হতে পারে।তারা আপনার ফাইল ভার্সিটিতে ফরওয়ার্ড করবে।ভার্সিটির হাতে তখন কাজ কম থাকায় আপনাকে দ্রুত রিপ্লাই করবে।যা আপনার জন্য ভালো।আর এডমিশন লেটার হাতে পাওয়া মাত্রই ভিসার জন্য ইন্টারভিউ ডেট নিয়ে নেন। তাহলে ভিসা ইন্টারভিউ ডেট নিয়ে ঝামেলা পোহাতে হবে নাহ। সহজেই ডেট পেয়ে যাবেন।

#৭_ডকুমেন্ট_কিভাবে_পাঠাবেনঃ
ডিএইচএল বা ফেডএক্স এর স্টুডেন্ট অফার আছে যা বেশ সাশ্রয়ী। বিশ্বের অন্যদেশ যখন তাদের সরকারি মাধ্যম নিয়ে গর্ব করে তখন আমি বাংলাদেশ ডাক দিয়ে পেপারস পাঠিয়ে বেশ পাঠিয়ে বেশ বিপদে পড়েছিলাম।মাত্র ২০০ এর কম গ্রাম পাঠাতে টাকা নিয়েছিলো ১৭০০,আর সময় লেগেছে ১৬ দিন।আমি অবশ্য অন্য মাধ্যম থেকে পাঠাই,যেটা একটা লোকাল এজেন্সি।৫০০ গ্রাম পাঠাতে খরচ নেয় ১২০০ টাকা আর ৪ দিনেই তা চলে যায়।

#৮_আমার_প্রোফাইলঃ
এসএসসিঃ ৫.০০(সাইন্স)
এইচএসসিঃ৪.৪০(সাইন্স)
অনার্সঃ ২য় বর্ষের রেজাল্ট ৩.৩১ (প্রাণিবিদ্যা-তিতুমীর কলেজ,ন্যাশনাল ভার্সিটি )
আইএলটিএসঃ ৬.০০(সব গুলো মিলিয়ে)
জার্মান ভাষা দক্ষতাঃ এ২ শেষ।বি১ এক্সাম দিছিলাম,স্প্রেখেন ছাড়া কোন টায় পাশ করতে পারি নাই
জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ঃ রাইন ভাল ইউনিভার্সিটি ওফ এপ্লাইড সাইন্স।
বিষয়ঃ বায়োমেটেরিয়ালস সাইন্স।
কোর্সের ভাষাঃ ইংলিশ
ডিগ্রিঃ ব্যাচেলার

 

 

#মোঃ_নিয়াজ_মুহিত
#বিসাগ_সেচ্ছাসেবী

Print Friendly, PDF & Email