• Home »
  • Finding-the-Right-University »
  • বিদেশে থাকলেই সবাই সবজান্তা নন, সিনিয়র হলেই সবাই অনুকরণীয় নন”

বিদেশে থাকলেই সবাই সবজান্তা নন, সিনিয়র হলেই সবাই অনুকরণীয় নন”

 

উচ্চশিক্ষা এবং ক্যারিয়ার নিয়ে যখন কেউ কথা বলে, তাকে মাথায় রাখতে হবে যে, এটা ছেলেখেলা নয়। নিজে কিছু একটা করতে পারে নাই, পড়াশোনা ঠিকমতন না করায় পরবর্তীতে  একটা চাকরি যোগাড় করতে ব্যর্থ, জার্মান ভাষা না শিখে সামান্য কম্যুনিকেশনের অভাবে দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে “ডলা” খাবার পর এইসব মুনিরা নানা সময় নানা ধরনের উপদেশ পরামর্শ দেন। তাদের চোখে জার্মানি বিভীষিকাময়। নিজেরা সুবিধা করতে না পেরে অন্যদেরকেও সঠিক পথ দেখানোর বদলে বিভিন্ন রকমের “সমস্যা”র যুক্তি দেখিয়ে তারা প্রমাণ করতে চান, “আরে ভাই, অন্য দেশে যান, জার্মানিতে আসার বহুত ঝক্কি।” 

অন্য অনেক প্রচলিত ফেসবুক গ্রুপের সাথে বিসাগ গ্রুপের একটা মানগত পার্থক্য আছে। দুঃখজনক হলেও গ্রুপের বিবরণ ভাল মতন পড়ে না দেখার কারণে অনেকেই এই পার্থক্য ধরতে পারে না। এই পোস্টে আমি গ্রুপের নিয়মাবলী-৪ এর উদ্ধৃতি দিচ্ছি।

“যারা তথ্য দেবেন, চাহিবামাত্র সেই তথ্যের উৎস দিয়ে দেবেন। একইসাথে যারা তথ্য নিতে আগ্রহী, তারা নিজ দায়িত্বে সকল তথ্য যাচাই করে নেবেন।”

যে কথা বলছিলাম। আমি খারাপ বলেই দুনিয়া খারাপ না। আমি পারি নাই বলেই নতুন প্রজন্ম পারবে না – এমন কোন যুক্তি নাই। জার্মানিতে ১৩ বছরের অভিজ্ঞতায় শুধুমাত্র “লুসার”দেরকেই দেখেছি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সারাক্ষণ গঞ্জনা এবং সিস্টেমের দোষারোপ করতে। আজকের দিন পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে জার্মান ভাষা জানে এবং সঠিকভাবে যেকোনো বিষয়ে (সেটা আইটি হোক আর টেক্সটাইল বা কৃষি হোক) পড়াশোনা শেষ করেছে এমন একজন ছেলে বা মেয়েকেও দেখি নাই – যারা শূন্য হাতে নিজের অনিচ্ছায় দেশে ফিরে গেছে বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া শেষ করে রেস্টুরেন্টে বাসন মাজছে। বরং যারাই সঠিক নিয়মের মধ্যে থেকে পড়াশোনা শেষ করেছে, তারা সবাই এই দেশে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং নিজেদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে সুখী। যারা বলে “ওখানে নাকি জব পাওয়া বেশ কষ্ট“ বা „বাংলাদেশের মত, আজকাল জার্মানিতেও নাকি জব পাবার জন্য কারো প্রভাব থাকা লাগে !” – তারা এতকাল জার্মানিতে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ঘোড়ার ঘাস কেটেছেন। সন্দেহাতীত ভাবেই ঘুম ভাঙ্গার পর তাদের জন্য কেউ জব নিয়ে বসে ছিল না।

আরেকটা বিষয়ে আলাদা করে না বললেই না। বাংলাদেশে থেকে বিদেশ আসার সময় আমরা কিছু নিচু মানসিকতা সাথে করে নিয়ে আসি। এর মধ্যে একটা হল, ভাল ইউনিভার্সিটিতে পড়লেই নিজেদের “এলিট” মনে করার একটা ভ্রান্ত ধারণা। বুয়েট মেডিকেলে পড়লেই ভাল ছাত্র, অন্যরা সবাই গাধা- এই ধারণা কতটুকু সত্য বা মিথ্যে  এই নিয়ে বাংলাদেশে বসে আলোচনার ঝড় উঠে প্রায়শই। তবে যেটা গত ১২ বছর ধরে জার্মানির সব সেরা কোম্পানিদের (তালিকাটাও দিলাম রেফারেন্স হিসেবেঃ সিমেন্স, বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ, মান, কন্টিনেন্টাল, বোশ, কস্টাল, টিয়ারভে, এএমডি) সাথে কাজ করে উপলব্ধি করেছি, সেটা হলঃ জার্মানিতে এলিট ইউনিভার্সিটি বলে কিছু নেই। কে TU9 থেকে আসল, নাকি অচেনা শহরের ফাখহোকশুলে থেকে এসেছে – এই নিয়ে কর্মক্ষেত্রে জার্মানরা কেউ মাথা ঘামায় না। বাংলাদেশের কিছু ছেলেপেলেকেই শুধু দেখা যায়, যারা বড় শহরের টিইউ-তে পড়াশোনা করে ছোট শহরের হোকশুলেতে অধ্যায়নরতদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করে থাকে। জার্মানিতে সফলতার মাপকাঠি নির্ভর করে ব্যাক্তিগত পার্ফরমেন্স এবং কর্মকান্ড থেকে।

যারা এই ধরণের „ফ্রি“ উপদেশ পাচ্ছে, তাদের কাছে একটা বিনীত অনুরোধ। আমাদের সময় শেষের পথে, এখন তোমাদের পথচলা শুরু মাত্র। যা আমরা আমাদের প্রজন্মে করে যেতে পারি নি, সেই পথে সামনে এগোতে হবে তোমাদেরকেই।„সিনিয়র“দের ব্যর্থতার ইতিহাস কখনই যেন তোমাদের নতুন দিনের স্বপ্নকে ধূসর করে না দেয়।

বিঃদ্রঃ কাভি ইসলামের করা প্রশ্নের সাপেক্ষে এই বিষয়ে আলাদা করে পোস্ট করা দরকারি মনে করলাম। (www.facebook.com/groups/bsaag.reloaded/permalink/610898705687189)

আদনান সাদেক, ২০১৪

লেখকের অন্যান্য পোষ্ট 

Print Friendly, PDF & Email