ব্লক একাউন্টের যত কথা

 

 

ব্লক একাউন্ট কি?
জার্মানীতে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে কোন টিউশন ফি নেই কিন্তু থাকা-খাওয়ার খরচের জন্যে তাকা প্রয়োজন। এই থাকা – খাওয়ার খরচ বাবদ ১২ মাসে ৬৫৯ ইউরো করে বছরে ৭৯০৮ ইউরো ব্যাংকে দেখাতে হয় ভিসার জন্যে। এটা ভিসা পাবার জন্যে অপরিহার্য শর্ত।

ব্লক একাউন্ট করতে যা প্রয়োজনঃ
স্টুডেন্ট ফাইল খুলতে হবে যদি না থেকে থাকে। চাইলে জয়েন্ট একাউন্ট খুলতে পারেন নয়তো কাউকে নমিনি করতে পারেন। এতে করে আপনি জার্মানীতে আসার পর আপনার টাকা ট্রান্সফার করতে সুবিধা হবে। আপনি চাইলে ডিমান্ড ড্রাফট করে আনতে পারেন কিন্তু যদি কোনভাবে সেতা হারানো যায় তাহলে বিপদে পড়বেন। তাছাড়া ডিমান্ড ড্রাফটে টাকা ট্রান্সফার করতে অনেক সময় লাগে কিন্তু টাকা যদি কেউ ট্রান্সফার করে তাহলে ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে ট্রান্সফার হয়ে যায়। নিচে কি কি কাগজ লাগবে তার লিস্ট দেয়া হল। কাউকে নমিনি করলে সেই ব্যক্তিকে সাথে করে নিয়ে যাবেন কারন তাকে সেখানে কিছু কাগজে সাইন করতে হবে।

  • ইউনিভার্সিটির অফার লেটার , ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স এর অফার লেটার ( যদি থাকে )
  • এস.এস.সি., এইচ.এস.সি., ব্যাচেলর (মাস্টার্সের ক্ষেত্রে) সার্টিফিকেট এবং মার্কশিট।
  • পাসপোর্ট
  • জাতীয় পরিচয়পত্র
  • নিজের পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • নমিনির পাসপোর্ট সাইজ ছবি

টাকা যেভাবে ব্লক করা হয়ঃ
ভিসা ইন্টারভিউ এর আগে টাকা ব্লক করে তার সার্টিফিকেট দেখাতে হয়। উদাহরন দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছি।

ধরুন, আমি ব্লক একাউন্ট খুলবো, আমার ভিসা ইন্টারভিউ এর তারিখ ৫মে, ২০১৪। আমি ব্যাংকে জার্মান এম্বাসির নিয়ম অনুযায়ী ৭৯০৮ ইউরো ব্লক করবো। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে আজকে ইউরোর রেট হল, ১০৭.২৭৩৫টাকা = ১ইউরো (http://www.bangladesh-bank.org/)। এই হিসেবে আমাকে ৮৪৯৩৮১ টাকা ব্লক করতে হবে। ব্লক করার পর ব্যাংক থেকে আমাকে একটা সার্টিফিকেট দেবে যেখানে একচেঞ্জ রেট সহ টাকার পরিমান উল্লেখ থাকবে।

এই টাকার সঙ্গে আমাকে স্টুডেন্ট ফাইলের খোলার ফি এর জন্যে ২০০০ থেকে ১০০০০টাকা পর্যন্ত জমা দিতে হবে। এই টাকা ব্যাংক ভেদে ভিন্ন হয়।

একাউন্টতো হলো এবার?
ব্লক একাউন্টের টাকা থেকে ভিসার আগে যদি প্রয়োজন পড়ে তাহলে হোস্টেলে টাকা ট্রান্সফার করতে পারবেন। তবে সেটার জন্যে আপনাকে প্রয়োজনীয় প্রমান হিসেবে তাদের যে টাকা পাঠাতে হবে সেই ইমেইল প্রিন্ট করে নিয়ে যেতে হবে। টাকা পাঠানোর পর সেটার রিসিপ্ট আপনাকে দেবে।

ভিসা হয়ে যাবার পর, আপনি জার্মানীতে আসার আগে ব্যাংকে গিয়ে ভিসা দেখিয়ে টাকা আনব্লক করতে হবে। এই আনব্লক হবে ইউরোর সেই দিনের রেটের উপর ভিত্তি করে। ধরে নিন, সেদিন যদি রেট ১০৪টাকা হয় তাহলে সেই হিসেবে যে টাকা হয় তাই আনব্লক হবে। সেই টাকা আপনি জার্মানীতে ব্যাংক একাউন্ট খোলার পর আপনার নমিনি টাকা ট্রান্সফার ফি জমা দিয়ে এবং আপনার স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের কপি দেখিয়ে (যা আপনি স্ক্যান করে পাঠাবেন) আপনার জার্মান ব্যাংকে টাকা পাঠিয়ে দেবে এবং সেই টাকার পরিমান ওই দিনের ইউরো রেটের উপর নির্ভর করবে। পরবর্তী বছর যদি আবার টাকা পাঠাতে হয় তাহলে একি একাঊন্ট ব্যবহার করে পাঠানো সম্ভব।

কোন ব্যাংকে ব্লক একাউন্ট করা যায়?
এই সব ব্যাংকে ফোন করে আপনি জেনে নিতে পারেন সব নিয়ম। তাই বেশ কিছু ব্যাংকের ঠিকানা, ওয়েবসাইট লিঙ্ক এবং হেল্প লাইন নম্বর দেয়া হল।

  • Commercial Bank of Ceylon

Chittagong Branch
1102/A, Agrabad C/A, Chittagong
Phone# (88 031) 713325-7
FAX# (88 031) 710978

Gulshan Branch
49, Gulshan Avenue,
Dhaka-1212.
Phone# (88 02) 8824275, 8813125
FAX# (88 02)8824147

  • Eastern Bank Ltd.(EBL)
    –Helpline number: 8332232 or 16230
  • City Bank, Banani Branch, Dhaka and Agrabad Branch, Chittagong.
  • Dutch-Bangla Bank Ltd.(DBBL) –Helpline number: 16216
  • AB BANK Ltd, Dhanmondi branch
  • Standard chartered Bank Bangladesh — https://www.sc.com/bd/personal-banking/accounts/services/student-files/en/
    — Helpline number: 16233 or(+88 02) 8332272
  • Rupali Bank Limited
  • United Commercial Bank (UCBL)
    — HEAD OFFICE
    Bulus Center
    Plot – CWS- (A)-1
    Road No – 34
    Gulshan Avenue, Dhaka-1212.
    +88-02-8852500

 কোন ব্যাংক ভালো?
কিছু কিছু ব্যাংকে ব্লক একাউন্ট করার পর ব্যবহার পালটে যায়। সিটি ব্যাংক, বনানী শাখার সার্ভিস আমি ভালো পাইনি। পরে গ্রুপ থেকে সবার মতামত অনুযায়ী সিলনের সার্ভিস বেশ ভালো শুনে সেখানে যাই। কোন রকম ঝামেলা হয়নি এই ব্যাংকে। তবে একটাই সমস্যা ছিল, এই ব্যাংকে কাজ খুব ধীরে হয় তবে বেশ ভালো সার্ভিস এদের এতে সন্দেহ নেই।

 কিছু প্রশ্ন, কিছু উত্তরঃ

  • ভিসা হবার পর আর কি ব্লক একাউন্টের টাকার প্রয়োজন আছে?

উত্তরঃ ভিসা হবার পরে আপনাকে অবশ্যই টাকা জার্মানির ব্যাংকে ট্রান্সফার করতে হবে। কারন এই টাকার পরিমান দেখিয়ে আপনাকে ভিসার মেয়াদ বাড়াতে হবে।

  • আমি কি ভিসার মেয়াদ বাড়ানো শেষে টাকা দেশে ফেরত পাঠাতে পারবো?

উত্তরঃ কিছু কিছু রাজ্যে আপনি চাইলেও পাঠাতে পারবেন না। সেসব রাজ্যে বাধ্যতামুলক আপনাকে প্রতি মাস শেষে একটা নির্দিষ্ট পরিমান টাকা তুলতে হবে। কিছু কিছু রাজ্যে আপনি টাকা একবারেই তুলে ফেলতে পারবেন, কিন্তু তার আগে টাকা আয়ের ব্যবস্থা করে নিতে হবে অবশ্যই।

  • এক বছর পর কি আবার সেই একি পরিমান টাকা দেখাতে হবে? মানে ৭৯০৮ ইউরো?

উত্তরঃ সেটাও কিছু কিছু রাজ্যে দেখাতে হয়। তবে যদি আপনি আমার মতন ভাগ্যবান হন এবং প্রথম বছরেই ২২ মাসের মতন ভিসার মেয়াদ পেয়ে যান তাহলে মাঝে একবার আপনাকে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আপনার শহরের ইমিগ্রেশন অফিসে পাঠাতে হবে। তবে একাউন্টে ২০০০ইউরো থেকে ৪০০০ ইউরো থাকা ভালো(আমাকে ইমিগ্রেশন অফিস থেকে তাই বলেছে)

  • আমি যদি স্কলারশিপ পাই তাহলেও কি এই টাকা দেখাতে হবে?

উত্তরঃ না দেখাতে হবে না।

  • আমি কি ৭৯০৮ ইউরোর বেশী টাকা ব্লক করতে পারবো?

উত্তরঃ না পারবেন না। এম্বাসি থেকে যে নিয়ম সাধারনত ব্যাংক সেই নিয়ম মেনে টাকা ব্লক করবে।

  • ভিসা না হলে টাকাটা কি তুলতে পারবো?

উত্তরঃ পারবেন। ভিসা না হলে সেটার কাগজ দেখিয়ে টাকা আনব্লক করা যাবে।

ব্লক একাউন্ট নিয়ে আরও জানতে দেখুন

লেখকঃ বিপাশা দেবনাথ

#BSAAG_Block_Account

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার সংক্রান্ত প্রশ্নের জন্য যোগদিন বিসাগের ফেসবুক ফোরামেঃ www.facebook.com/groups/bsaag.reloaded
জার্মান ভাষা অনুশীলন এবং প্রশ্নোত্তের জন্য যোগ দিন ফেসবুকে বিসাগের জার্মান ভাষা শিক্ষা গ্রুপেঃ www.facebook.com/groups/deutsch.bsaag

Print Friendly, PDF & Email