বিসাগ কেন বন্ধ হল! একটি প্রতিবাদ।

 
গত অনেক বছর ধরে ফেসবুকে অন্যদের সমস্যার সমাধান দিয়েছি। এইবার নিজে সমস্যায় পড়ে ফেসবুকেই অন্যদের কাছে সাহায্যের জন্য হাত বাড়ালাম। কোথা দিয়ে শুরু করব বুঝতে পারছি না।অনেক বছর আগে জার্মানিতে এসেছিলাম, ২০০২ এর কথা। তখন যে শহরে পড়তে আসলাম সেই শহরটা পূর্ব নাকি পশ্চিম জার্মানিতে – এইটাও জানতাম না। কাউকে চিনি না, ভাষা জানিনা। যে শহরে আসলাম সেখানে হাতেগোনা দুই একজন বাংলাদেশি, তারাও নিজের কাজে ব্যস্ত। ছাত্রাবস্থায় খুব কঠিন কিছু সময় গেছে। সেটা হয়তো আমেরিকার সাথে তুলনা করা যাবে না।এক সময় নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নিজের দুরবস্থা আর স্ট্রাগলের কথা ভুলে যাই নি। জার্মানি সম্পর্কে আমাদের ছেলেমেয়েদের খুব সামান্য ধারণা, সেই কারণে অনেকেই জার্মানি আসতে চায়না বা ভুল ধারণা নিয়ে আসে। অন্যদের এই শূন্যতাটা পূরণের পথ পেলাম ফেসবুকের মাধ্যমে। সবার ফেসবুকে একাউন্ট আছে, বাকিটা ছিল শুধু একটা সদিচ্ছা এবং উদ্যোগের।গত ৩-৪ বছর ধরে আমার এবং আরও কয়েকজন স্বেচ্ছা সেবকের কঠোর পরিশ্রমে একটা অনন্য ফোরাম দাঁড়িয়ে গেল। প্রায় ২৭ হাজার সদস্যের মূল গ্রুপের পাশাপাশি আরও কয়েকটা সাব-গ্রুপ। বাংলায় জার্মান ভাষা শেখা থেকে শুরু করে বাংলায় আমরা জার্মানির উচ্চশিক্ষার সকল ক্ষেত্র এবং প্রক্রিয়ার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছি। বছর দুয়েক ধরে আমাদের সাইট দাঁড় করা হল, জার্মানির উচ্চশিক্ষার তথ্য বাংলা ভাষায় আমরাই প্রথম পৌঁছে দিয়েছি সবার কাছে।

প্রায় কয়েক হাজার ছেলে মেয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের ফোরামের সাহায্য নিয়ে জার্মানিতে এসেছে। এদের ভালবাসা এবং কৃতজ্ঞতা আমাদের শ্রমকে সার্থক করেছে। এদের স্বপ্ন পূরণ দেখে আমরা আনন্দিত উদ্দীপিত হয়েছি।

উদ্দেশ্য যত ভালই হোক, সেখানে কারও না কারও চক্ষুশূল হতে হয়। বিদেশে উচ্চশিক্ষার এজেন্সির বিরুদ্ধে লড়াই করা বিসাগই প্রথম শুরু করে। এখানে মানুষের অজ্ঞানতার সুযোগ নিয়ে প্রচুর দালাল জাতীয় সংগঠন ছেলেদের বড় বড় স্বপ্ন দেখিয়ে ১০-১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল, যেখানে নিজে প্রসেস করলে ৫-১০ হাজার টাকা লাগে। এজেন্সিরা আমাদের উদ্যোগ ভাল চোখে দেখল না স্বাভাবিকভাবেই।

আমাদের দ্বিতীয় আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল নিজেদেরকে রাজাকার মুক্ত ঘোষণা করা। আমরা বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য করি বিনামূল্যে। যারা দেশের সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়, তাদেরকে আমরা কেন সাহায্য করব! “বিসাগ জার্মানিতে বসবাসরত বাংলাদেশীদের একটি অরাজনৈতিক, ধর্মনিরপেক্ষ এবং রাজাকারমুক্ত স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম, জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারের পথপ্রদর্শক।”-এই শ্লোগানে অনেকের চক্ষুশূল হলাম আমরা।

কিন্তু আমাদের প্রতি আঘাত এসেছে সম্পুর্ন ভিন্ন খাত থেকে। রাশিদুল হাসান, একই সাথে BSAAG এবং HSA (HigherStudyAdmin) এর এডমিন। সে প্রথম থেকেই চাইছিল, বিসাগ HSA এর অধীনে কাজ করুক। আমরা কেউই সেটাতে রাজি ছিলাম না। তার মূল কারণ HSAএর সাথে সরাসরি কোচিং সেন্টারের যোগাযোগ। ৩১শে মার্চ রাতের আঁধারে হঠাত করে ফেসবুকে বিসাগের সবগুলো গ্রুপ ব্লক হয়ে গেল, আমাদের ওয়েব সাইট ফেসবুকে নিষিদ্ধ হয়ে গেল। এপ্রিলে ১ তারিখ আমাদের ৩০ হাজার সদস্যের ফেসবুক পেইজ এডমিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাশিদুল হাসান কাউকে কিছু না জানিয়ে মুছে দিল।Slide8

Slide7Slide6Slide5Slide4Slide3HSA

আমরা ভাবছিলাম সব বুঝি ফেসবুকের “টেকনিক্যাল” সমস্যা। কাউকে কিছু না জানিয়ে রাশিদুল হাসান তার প্রোফাইল থেকে এপ্রিলের ৩ তারিখ নতুন গ্রুপের ঘোষণা দিল। দুই একজনের সাথে ভেতরে ভেতরে কথা বলে সে লিখল, “পুরনো আমরাই”। সেখানে বিসাগকে HSAএর অঙ্গসঙ্ঘঠন হিসেবেও ঘোষণা আসল, লাইক দেবার তালিকায় সর্বপ্রথমেই HSA প্রতিষ্ঠাতা সিয়াম মোশাররফ। নতুন ব্যনার, নতুন পেজ, নতুন গ্রুপ। এমনকি বিসাগের সব ডকুমেন্ট চুরি করে সেখানে আগে থেকেই তারা কপি করে রেখেছিল, এখন নাকি নতুন গ্রুপে সব ডকুমেন্টও পাওয়া যাচ্ছে। তারা সবাই জানতই বিসাগ গ্রুপ বন্ধ করে দেওয়া হবে, সব প্রস্তুতি নেওয়াই ছিল।

HSA একটি চমৎকার উদ্যোগ, এখানে অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী কোন ধরণের স্বার্থ ছাড়াই কাজ করছে। তাদের হাজার হাজার সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষীরা কি জানে HSA এর গুডউইল ব্যবহার করে ভেতরে ভেতরে তাদের এডমিনরা কি করছে? তারা কেন বিসাগকে ধ্বংস করার জন্য সহায়তা করবে? জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার জন্য বিসাগের ভুমিকা কি যথেষ্ট ছিল না, কেন HSAকে তাদের এডমিনের সাহায্য নিয়ে গোপনে বিসাগ ব্লক, পেইজ মুছে দিয়ে নতুন গ্রুপ করারতে মদদ বা সাহায্য করতে হবে? HSA এর ভয় কি এই যে, আমরা জানি তাদের জন্ম হয়েছিল, কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে?

এই লজ্জা রাখার কোন স্থান আমাদের নেই। বিসাগ জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার পথে একটি বিরল নিদর্শন উপস্থাপন করেছে। নোংরা রাজনীতি, গ্রুপ দখল, অন্যের নামে কুৎসা রটানো -এইসব নিজেদের আন্তকোন্দল দিয়ে আমরা শুধু নিজ দেশকেই ছোট করছি। এই নজীর বিহিন মিথ্যাচার এবং ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আমরা বিসাগ ওয়েব সাইট অনির্দিস্টকালের জন্য বন্ধ রাখব। যতদিন না এই অন্যায়ের প্রতিবাদ হয়, ফেসবুক থেকে যতদিন না আমাদেরকে আনব্লক করা হয়।

অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তাদের মধ্যে আসলে কোন পার্থক্য নেই।

Print Friendly, PDF & Email
Adnan Sadeque
Follow me

Adnan Sadeque

লেখকের কথাঃ
http://bsaagweb.de/germany-diary-adnan-sadeque

লেখক পরিচয়ঃ
http://bsaagweb.de/adnan-sadeque
Adnan Sadeque
Follow me