জব নিয়ে জার্মানি যাওয়া – জব কিভাবে খুঁজবো?

 

জব নিয়ে জার্মানি যাওয়ার জন্য সবথেকে জরুরি বিষয়টা হল জব পাওয়া। আপনি যোগ্য হলে এই পোষ্টটি আপনার জন্য। এখানে আমি জার্মানিতে কিভাবে IT সম্পর্কিত চাকুরি পেতে পারেন তার সম্পর্কে একটা ধারনা এবং কিছু গাইডলাইন দেবার চেষ্টা করবো।

IT সম্পর্কিত চাকুরি পাওয়ার জন্য বেশকিছু স্বনামধন্য জব সাইট আছে যেখানে থেকে আপনি এপ্লাই করতে পারবেন। নিচে এগুলোর একটা তালিকা দিচ্ছি।

Stackoverflow Jobs

Stackoverflow Jobs IT জবের জন্য খুবই ভাল পোর্টাল, সারা বিশ্বেই এমনকি বাংলাদেশের ভাল ভাল জব পোষ্ট এখানে আসে। এখানে সব জব Visa Sponsored না। নীচের স্ক্রীনশটটায় দেখা যাচ্ছে এখানে Visa Sponsorউল্লেখ করা আছে। এরকম জবে মুলত আপনাকে এপ্লাই করতে হবে।

Linkedin Jobs

Linkedin Jobsখুব ভাল একটি মাধ্যম জব খোজার জন্য, প্রতিনিয়ত এখানে প্রচুর জব পোষ্ট হয়, এখানে নোটিফিকেশন তৈরি করে রাখা যায় যেন জব পোষ্ট হওয়া মাত্রই মেইলে নোটিফিকেশন আসে। আমি সার্চ ক্রাইটেরিয়াগুলো দিয়ে নোটিফিকেশন তৈরি করে রাখতে পছন্দ করি। ভিসা স্পন্সর লেখা থাকা উচিত এখানেও। যদি না থাকে তারপরও মাঝারি/বড় কম্পানিগুলোতে এপ্লাই করার পরামর্শ দিবো কারন জার্মানিতে ভিসা স্পন্সর করার হার অনেক ভাল।

Relocate.me

Relocate.me মুলত রিলোকেশন জব এর জন্য। এখানেও জব আছে মোটামুটি ভালই। নিয়মিত এখানেও নজর রাখা যেতে পারে।

Recruiter

জার্মানিতে IT রিক্রুটমেন্টের একটা বড় অংশ হয়ে থাকে রিক্রুটারদের মাধ্যমে। বেশিরভাগই ব্রিটিশ রিক্রুটার। তারা ফোনে কথা বলে প্রথমে যোগ্যতা সম্পর্কে কিছুটা নিশ্চিত হয়ে তারপর কম্পানির সাথে ইন্টার্ভিউ এর ব্যাবস্থা করে থাকে। আপনি যখন একবার জার্মানিতে চলে আসবেন তখন তুলনামুলক প্রচুর রিক্রুটার আপনার লিংকডইনে নক করবে বা কানেকশন রিকোয়েস্ট পাঠাবে। বাংলাদেশে থাকলে তার পরিমান আসলে অনেক কম হবে। আপনাকে যা করতে হবে খুজে খুজে রিক্রুটারদেরকেই কানেকশন রিকোয়েস্ট পাঠাতে হবে যারা জার্মানিতে রিক্রুটমেন্টের কাজ করে থাকে। এসব রিক্রুটাররা জব পোষ্ট করে থাকে সেগুলো থেকে বা সরাসরি তাদের সাথে যোগাযোগ করেও আপনি এপ্লাই করতে পারবেন। মনে রাখতে হবে মেসেজগুলো যেন খুবই ফর্মাল এবং প্রফেশনাল হয়। এ ধরনের মেসেজের টেমপ্লেট অনলাইনে প্রচুর পাওয়া যায়। কিভাবে লিংকডইনে রিক্রুটার খুঁজে পাবেন এর উপরে গুগল করলে অনেক টিপস পাবেন।

অফিসের টিম লিডদের সাথে যোগাযোগ করে

যেসব অফিসে আপনি জয়েন করতে চান সেগুলোর লিড ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে লিংকডইনে কানেক্ট হোন এবং তাদেরকে মেসেজ করতে পারেন আপনার আগ্রহ জানিয়ে। মনে রাখতে হবে মেসেজগুলো যেন খুবই ফর্মাল এবং প্রফেশনাল হয়। এ ধরনের মেসেজের টেমপ্লেট অনলাইনে প্রচুর পাওয়া যায়।

জব খোঁজার কিছু টিপস

পুরো জার্মানিই অনেক সুন্দর এবং বসবাস উপযোগী বলা যায় তবে আমার পরামর্শ থাকবে একজন ইংরেজী ভাষাভাষী হিসেবে প্রথমে কোন ভাল সিটিতে যাবার। আবার ওদিকেও কিছু সমস্যা আছে বড় কিছু সিটিতে আবাসন সমস্যা খুবই প্রকট যেমন মিউনিখ। বার্লিনে বসবাস তুলনামুলক খরচ কম তবে আবাসন সমস্যা এখন প্রকট হয়ে উঠছে। আশার বানী হল এখানে তুলনামুলক বেশি ভাড়া দিয়ে ফার্নিশড বাসা পাওয়া যায়। এই তুলনামুলক বেশি ভাড়া মিউনিখের সাধারন ভাড়ার মতই। ভাল সিটির মধ্যে ফ্রাঙ্কফুর্ট, হামবুর্গ, ড্রেসডেনসহ আরও অনেক শহর আছে। এগুলো শহর সম্পর্কে একটু ভালভাবে জেনে তারপর সেভাবে জব এপ্লাই করতে পারেন।

বাংলাদেশ থেকে ভিসা প্রসেস করা তুলনামুলক খুবই সোজা তাই যারা ভিসা স্পন্সর করছে না আপনি তাদেরও কনভিন্স করে লিখতে পারেন। আপনি যদি সত্যিই খুব আগ্রহী এবং যোগ্য হন অনেকেই মত পরিবর্তন করতে পারে।

কখনোই স্প্যামিং করবেন না, নিজের যোগ্যতা বুঝে যদি নিশ্চিত হন আপনি যোগ্য শুধু সেক্ষেত্রেই আবেদন করবেন। দেশের বাইরে থেকে কাউকে একজন সহযে হায়ার করে না যতক্ষন না তারা খুবই সন্তুষ্ট হয়। আপনার স্প্যামিং এর কারনে যেমন আরও বাংলাদেশির স্ক্রীনিং বাতিল হয়ে যেতে পারে তেমনি একবার ভুল করার জন্য আপনিও কালোতালিকায় স্থান পেতে পারেন।

খুব প্রফেশনালি আবেন করবেন, কিভাবে IT জবের আবেদন করতে হয় তা গুগল করে আর্টিকেল পরে পরে শিখে নিন। কাভার লেটার, সিভি ইত্যাদি যেন খুবই প্রফেশনাল হয়।

এখানে আমি খেয়াল করেছি দেশে যারা সিনিওর পজিশনে জব করেন সাধারনত এখানে তাদের পদবী সাধারনই হয়। এখানে সিনিওর হতে ৫-৬ বছর লেগে যাওয়াটা একটা সাধারন ঘটনা। তাই আবেদন করার সময় একটু বুঝে শুনে।

প্রগ্রামার হিসেবে আবেদন করলে এ্যালগরিদম, ডাটা স্ট্রাকচার বিষয়ক প্রশ্ন আসবে এটাতে কোন সন্দেহ নাই তাই সুযোগ থাকতে এগুলো শিখে নিয়ে তারপর আবেদন করাই শ্রেয় কারন একবার কোথাও ডিসকোয়ালিফাই হয়েছেন তো মিনিমাম ৬ মাস আর আবেদন করতে পারছেন না।

টার্গেট করে কম্পানির তালিকা বানাতে পারেন যেগুলোতে আপনি কাজ করতে চান এবং নিয়মিত লক্ষ্য রাখুন তাদের জব পোর্টালগুলোতে।

আমার কাছে বিভিন্ন টপিক নিয়ে লেখার জন্য অনুরোধ করতে পারেন। এজন্য আমাকে মেইল করুন asif.saho{at}gmail.com ঠিকানায়। আর লেখাটি যদি আপনার পছন্দ হয়ে থাকে তাহলে আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করতে পারেন। হয়তো আপনার মত অনেকেরই কাজে লাগতে পারে।

পূর্ববর্তীতে লেখাটি আমার ব্যক্তিগত ব্লগে প্রকাশিত, সূত্র উল্লেখ করে শেয়ার বা ভিন্ন যায়গায় প্রকাশ করা যাবে।