• Home »
  • Higher-Study-in-Germany »
  • ”আমার দেখা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ১৯৭১” – কাজী শহীদুল আলম

”আমার দেখা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ১৯৭১” – কাজী শহীদুল আলম

 

Hi I am Kazi Tauhidul Alam ,the below story was written by my beloved father regarding the “1971 The Liberation War” !!! It is really precious for me !!! He is my pride and my inspiration in the life !!! I will share his unpublished book in my face book.

Part -1

ভুমিকা:
বিসমিল্লাহ হির রহমা নিররহিম্।
আমি কাজী শহীদুল আলম দিপু পিতা মরহুম কাজী আব্দুল মাবুদ, যশোর জেলার অভয়নগর থানাধীন সিদ্ধিপাশা গ্রামের বাসিন্দা।আমার বাল্য, কৈশর ও যৌবনের কিছুটা সময বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের নয়টা মাস কেটেছে সিদ্দিপাশা গ্রামে। বতর্মানে বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকুরীর সুবাদে খুলনায় বসবাস করছি।কর্ম জীবন শেষ করে এখন অবসরে ।আমার জীবেনে মুক্তিযুদ্ধের একটা ইতিহাস ছিল,যা কর্মব্যস্ততায় ,ভুলতে বসে ছিলাম ।দুই ছেলে স্ত্রী নিয়ে আল্লাহ পাক ভালই রেখেছেন। আমার ছেলেদের মধ্যে বড়ছেলে খুলনা বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষক বতর্মানে কানাডায় পি এইচ ডি করছে;আর ছোটাটা এম এস এসি করেছে টেক্সটাইল টেকনোলজ়ীতে জার্মানিতে নেদারিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে ।ওরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ভীষন ভক্ত। দুই ছেলেই কিছুদিন আগে আমাকে বললো “আব্বু আমাদের পরিবারে স্বাধীনতা যুদ্ধের কোন ইতিহাস নেই ?যদি থাকে তবে আমাদের জানতে ইচ্ছা করে।” ওরা ভাঙ্গা ভাঙ্গা কিছু শুনেছে ,কিন্ত আমি ওদের কিছু বলিনি। আমি ওদের বললাম আমাদের পরিবারে স্বাধীনতা যুদ্ধের একটা সুন্দর ইতিহাস আছে যা গর্ব করার মত। আজ ৪১ বছর পরে ওদের অনুপ্রেরনায় আমাদের পরিবারে ঘটে যাওয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের কিছু কথা লিখতে বসেছি।দেশের জন্য যত সামান্য যা কিছু করেছিলাম তার প্রতিদান নিতে হবে, তা কোন দিন ভাবিনি । যা কিছু করেছি তা শুধু দেশের টানে ।এর একমাত্র বিনিময় তো আমার স্বাধীন দেশে বাস করা ।একটা সার্টিফিকেটই যে মুক্তিযু্দ্ধের সব পরিচয়,সে দিন তা ভাবিনি। সে দিন যদি একটা সার্টিফিকেট নিতাম তাহলে আজ আমাকে জনে জনে বলে বেড়াতে হতো না যে, আমি দেশের জন্য কিছু করেছিলাম।সে দিন মনে হয়েছে দেশের জন্য কিছু করে, তার প্রতিদান চাওয়া অন্যায় ।ইচ্ছা করলে সে দিন একটা সার্টিফিকেট যোগাড় করা আমার জন্য কোন ব্যাপারই ছিলনা। আজ যখন দেখি,কিছু লোক, আমার সামনে দিয়ে, দেশের জন্য কিছু না করে, সামান্য একটা সার্টিফিকেট যোগাড় করে, তার বিনিময়ে চরম সুযোগ ভোগ করছে এবং বুক ফুলিয়ে বলছে তারা মুক্তিযোদ্ধা, তখন নিজের উপর ধিক্কার লাগে।আজ তারা সামান্য একটা সার্টিফিকেটের বিনিময়ে মুক্তিযুদ্ধো না করে মুক্তি যোদ্ধা, আর আমরা এ দেশের কেউ নই! সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২ বছর চাকুরী বাড়িয়েছে।আমাদের অফিসের কত লোক,ম্যানেজ সার্টিফিকেটের বিনিময়ে দুবছর বাড়তি চাকুরীর সুযোগ ভোগ করছে।কখনো আমার এ সুযোগ গ্রহন করতে মন চায়নি এবং আমি চেষ্টাও করিনি।আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ পাক আমার তকদিরে যা লিখে ছিলেন তাই হয়েছে এবং এটাই যথেষ্ট। আমি পৃথিবীর কারো কাছে কিছু চাই না। যদি কিছু চাইতে হয় আল্লাহর কাছে চাইবো।না চাইতে,আল্লাহ যা দিয়েছেন,তা অনেক বেশী।আমি উত্তোরাধি কারীদের কাছে, রেখে যেতে চাই, স্বাধীনতাযুদ্ধে,আমার কিছু কথা।আমার মৃত্যুর পর তারা যেন জানে ওদের বাপ চাচারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় কিছু অবদান রেখেছিল। আমার লেখা “আমার দেখা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ” প্রবন্ধে মুক্তিযুদ্ধ সম্বন্ধে যা কিছু লিখে গেলাম তা সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে লেখার চেষ্টা করেছি।এটা মুক্তিযুদ্ধে আমার জীবনে ঘটে যাওয়া একটা চিত্র মাত্র ।
আমার জানা মতে এমন অমুল্যায়িত কত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বাংলার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তার হিসাব কে রাখে! এমন দু এক জনার কথা যদি না বলি তবে আমার তরফ হতেও তাদের মুল্যায়ন করা হবে না।আজ হতে ১৫ বছর আগে নিরালা আবাসিক এলাকায় বাড়ীর গ্রিল বানানোর সুবাদে এক মুক্তিযোদ্ধার সাথে আমার পরিচয় হয় ।তার নাম শহীদ। বাড়ী খুলনার কয়রায় উপজেলায় । মুক্তিযুদ্ধ করতে গিয়ে শরীরের কত যাযগায় গুলি খেয়েছে।তার চিহ্ন এখনও বিদ্যমান। সে কোন দিন কোন সার্টিফিকেট যোগাড় করেনি এবং তার কোন মুল্যায়নও হয়নি।সে নির্জনে দিন মজুরের কাজ করে যাচ্ছে। আজও বেঁচে আছে কিনা জানিনা। যদি মারা যায়, তা হলে সবার অগোচরে মনের কষ্টে সে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলো। আর একজন গোপালগজ্ঞ জেলার উরফি গ্রামের মো: সিদ্দিক মোল্লা ,যার বতর্মান অবস্থান খুলনা বৈঠাঘাটা উপজেলার সাচিবুনিয়া গ্রামে।ভদ্রলোক অসুস্থ্য ও পঙ্গু হয়ে অভাবের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।দুঃখের কথা বলতে গিয়ে বাসা থেকে দুটো কাগজ এনে আমাকে দেখতে দিলেন। দেখি একটা মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট অপরটা অস্ত্র জমাদান সার্টিফিকেট। আরো বললেন এটা দিয়ে কি হবে ? আমার কোন মুল্যায়ন হলো না।একদিন এটা ছিড়ে ফেলবো ।পরে জানতে পেলাম সে সেটা ছিড়েও ফেলেছে।এই অসহায় দরিদ্র পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধার কথা কে খোজ রাখে?এই হচ্ছে আমাদের দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মুল্যায়ন। অথচ আমাদের দেশের নেতাদের মুক্তিযুদ্ধের বুলি কপচাতে কপচাতে মুখে ফেনা উঠে যাচ্ছে।যিনি যতবড় নেতাই হোন না কেন,কাল কিয়ামতে এদের অবহেলার জবাব দিতেই হবে।আমাদের দেশের কোন নেতারই পক্ষে সম্ভব হলো না দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের হিসাব করা ।যদি কোন সরকার আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করে তবে এখনো তা তৈরী করা সম্ভব।এখনো বাংলার যত্রতত্র এর আলামত খুজে পাওয়া যাবে।কারন অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এখনো জীবিত আছেন।এরপর আর কোনদিনও এটা সম্ভব হবে না।
কাজী শহীদুল আলম

Print Friendly, PDF & Email