স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা (সাক্ষাৎকার-৪ঃ সাকি বিল্লাহ্‌, কেমনিটজ)

Featured

 

জার্মানিতে পড়তে আসা নিয়ে সবারই অনেক ধরণের ভাবনা চিন্তা থাকে। কিভাবে আবেদন করব, শেষ পর্যন্ত ভিসা পাব কিনা, টাকা পাঠাব কিভাবে, যাবার পর পূর্বভাবনার সাথে বাস্তবতার কতটুকু মিল পাব এইরকম অনেক ভাবনা। জার্মানিতে পা দিয়ে নতুন জীবনের সাথে খাপ খেয়ে মানিয়ে চলতে গিয়ে অনেক ধরণের নতুন অভিজ্ঞতার দেখা মিলে। নতুন দেশের নতুন নিয়ম, নতুন মানুষদের থেকে নতুন করে মূল্যবোধ এবং দেশ থেকে সাথে করে নিয়ে আসা স্বপ্ন এবং জার্মানির বাস্তবতা- এই অভিজ্ঞতাকে অন্যদের সাথে শেয়ার করার উদ্দেশ্য নিয়ে এই সিরিজের সুত্রপাত। Continue reading

ফেসবুকে বিসাগের জনপ্রিয় সকল পোস্টের তালিকা

Featured

 

বিসাগ গ্রুপের জনপ্রিয় পোষ্টগুলিকে এই ডকুমেন্টের মাধ্যমে সংরক্ষিত রাখা হবে। অন্তত ৫০টি লাইক পেয়েছে এমন পোস্টগুলি এখানে লাইকের সংখ্যার ক্রমানুসারে সাজিয়ে রাখা হল। কোন পোষ্ট বাদ পড়ে গেলে অনুগ্রহ করে লিংক সহ কমেন্ট আকারে প্রকাশ করার জন্য সদস্যদের প্রতি অনুরোধ থাকল। Continue reading

বিসাগ থেকে নিজের প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে নেওয়া

Featured

 

সবাইকে স্বাগতম জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা এবং ক্যারিয়ার সংক্রান্ত একমাত্র নির্ভরযোগ্য বিসাগ গ্রুপ এবং ওয়েবসাইটে। নতুন সদস্য, যারা এখনও জানে না কোথায় শুরু করবে, বিশেষ করে তাদের জন্য এই পোষ্ট।

 

#নতুন_সদস্য_কোথা_থেকে_শুরু_করব?

সবাইকে আমন্ত্রণ জানাব দশটি ধাপে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত লেখা গুলো পড়ে দেখতে। এখনও কিছুই জানিনা থেকে শুরু করে ভিসা ইন্টারভিউ দেবার প্রস্তুতি পর্যন্ত সকল ধাপের জন্য প্রয়োজনীয় লেখাগুলো এখানে পাওয়া যাবে। সকল প্রশ্নের উত্তর এখানে পাওয়া যাবে। ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং, কোর্স খোঁজা, কোন লেভেলে পড়তে কেমন যোগ্যতা লাগে, কিভাবে আবেদন করতে হয়, টাকা পয়সা কত লাগে, স্কলারশিপ পাওয়া যায় কিনা, ছাত্রাবস্থায় চাকরি করে খরচ চালানো সম্ভব কিনা, ভিসার জন্য কি কি প্রস্তুতি নিতে হয়, ভিসা ইন্টারভিউতে যেসব কাগজ লাগে, ইন্টারভিউতে কি কি প্রশ্ন আসে, ব্লক একাউন্ট, জার্মান ভাষা কতটুকু জানতে হয় ইত্যাদি সকল প্রশ্নের প্রাথমিক এবং বিস্তারিত উত্তর এখানে পাওয়া যাবে।

#ওয়েব_সাইট_লিঙ্কঃ http://bsaagweb.de/10-steps-to-higher-study-in-germany

অথবা #গ্রুপের_ফাইল_সেকশনেঃ www.facebook.com/groups/bsaag.reloaded/files

 

#প্রশ্নের_উত্তর_পাইনি__সার্চ_করা

বিসাগ সম্ভবত ফেসবুকের একমাত্র গ্রুপ (www.facebook.com/groups/bsaag.reloaded) যেখানে ট্যাগ দিয়ে সকল প্রশ্ন, পোষ্ট ইত্যাদিকে খুঁজে পাওয়ার একটি অত্যন্ত কার্যকরি পদ্ধতি চালু করেছে। এই পদ্ধতির ফলশ্রুতিতে বিসাগ গ্রুপের সকল তথ্য, প্রশ্ন নিজে থেকেই সংরক্ষিত হয়ে থাকছে। বছরের পর বছর একই প্রশ্নের উত্তর বারবার যেমন আমাদের আর দিতে হচ্ছে না, তেমনি এই পদ্ধতির মাধ্যমে নতুন যে কেউ গ্রুপের একদম প্রথম দিন থেকে শুরু করে সকল তথ্য এক ঝলকে খুঁজে বের করতে পারবে।

মনে রাখতে হবে, তুমি একাই জার্মানিতে যাচ্ছ না। তোমার আগে হাজার হাজার ছেলেমেয়ে গেছে, এবং তারা যেসব তথ্য জেনে গেছে, সেগুলো তোমাকে প্রথমে খুঁজে নিতে হবে যাতে করে তুমি নিজের সময় বাঁচাতে পার।

প্রথমেই তোমাকে জানতে হবে, বিসাগ__গ্রুপের__অফিশিয়াল__ট্যাগের__তালিকাঃ http://goo.gl/ls2AvL

গ্রুপে যদি তোমার ব্যাচেলর সংক্রান্ত প্রশ্ন থাকে, তাহলে এই নিয়ে যত আলোচনা আছে সেগুলো গ্রুপের সার্চ অপশনে সঠিক ট্যাগটি (BSAAG_Bachelors) দিয়ে খুঁজে নিতে পারঃফলাফলের লিংক দেখতে এইরকম হবেঃ

www.facebook.com/groups/bsaag.reloaded/search/?query=BSAAG_Bachelors

একইভাবে ভিসা (BSAAG_VISA) সংক্রান্ত সকল আর্কাইভ করা আলোচনা পাওয়া যাবে এইভাবেঃ

www.facebook.com/groups/bsaag.reloaded/search/?query=BSAAG_VISA

 

খোঁজার সময় ট্যাগের অফিশিয়াল তালিকার বানান হুবুহু এক রাখতে হবে, নইলে সঠিক তথ্য খুঁজে পাওয়া যাবে না।

 

#আরও_প্রশ্ন_আছে?__তথ্যশালা

ঢাকাতে বিসাগের সেচ্ছাসেবীরা নিয়মিত প্রতি সপ্তাহে তথ্যশালার আয়োজন করছে। এইসব তথ্যশালায় চাইলে সশরীরে গিয়ে বিসাগের স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে তোমার প্রশ্ন রাখতে পার। তথ্যশালা কবে কোথায় হবে সেটা আমাদের গ্রুপে নিয়মিত স্প্যাম করে জানিয়ে দেয়া হবে। একইসাথে পাবে বিসাগের ওয়েবসাইটের এই পোষ্টটিতে http://bsaagweb.de/info-uiu

 

#আমার_প্রশ্নের_উত্তর_কোথাও_খুঁজে_পাই_নি__বিসাগে_পোস্ট_করা

উপরের সবগুলো ধাপ নিজে চেষ্টা করেও যদি তোমার ব্যক্তিগত প্রশ্নের কোন সদুত্তর না পাও, সেক্ষেত্রে আমরা সবাইকে আমন্ত্রণ জানাই আমাদেরকে ওয়ালে পোষ্ট করে প্রশ্ন রাখতে। তোমাদেরকে বুঝতে হবে প্রশ্ন করার সুযোগ থাকা মানেই কোনমতে একটা প্রশ্ন ওয়ালে পোষ্ট করা কোনভাবেই কাম্য নয়। একজন যোগ্য ছেলে বা মেয়ে যে কিনা বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী, বা আদৌ আত্মনির্ভর হয়ে উচ্চতর জীবন যাপনের যোগ্য, তার কাছে থেকে আমরা প্রত্যাশা করি একটি সুন্দর সাজানো বিস্তারিত প্রশ্ন। এবং আমাদের থেকে বিনামূল্যে এই সার্ভিস পেতে এই প্রশ্নটি তোমরা সুন্দর বাংলায় এবং ট্যাগ দিয়ে করবে। তুমি যদি বাংলা লিখতে না জান, তাহলে কম্পিউটারে বসে অথবা মোবাইল ফোন থেকে কিভাবে বাংলা লিখবে, সেটা দেখে নাও এখানেঃ http://wp.me/p2zcv7-1uD

একইসাথে ট্যাগের তালিকা থেকে প্রশ্নের সাথে সংশ্লিষ্ট ট্যাগটি খুঁজে প্রশ্নের সাথে যুক্ত করে দাও, তাহলে তোমার এই প্রশ্ন এবং উত্তর থেকে উপকৃত হতে পারবে আরও অনেকে।

 

 

আদনান সাদেক, ২০১৬

জার্মানির পথে-১১: জার্মানিতে স্বীকৃত সকল বাংলাদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা (আপডেট এপ্রিল, ২০১৭)

Featured

 

বাংলাদেশের সকল সরকারী এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয় যাদের ডিগ্রিকে জার্মানিতে সরাসরি স্বীকৃতি দেয়া হয়, সেই বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানের নাম, স্থান এবং স্ট্যাটাসের তালিকা এই পর্বে দেয়া হল।

তুমি যদি এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পড়ে থাক, তাহলে জার্মানিতে তোমার ডিগ্রী সরাসরি গন্য করা হবে। মনে রাখবে, মাস্টার্সে ভর্তির জন্য বাংলাদেশ থেকে করা ৪ বছরের ব্যাচেলর গন্য করা হয়। একইসাথে এইসব ইউনিভার্সিটিগুলো থেকে ২ বছর সফলভাবে পড়া সম্পন্ন করা থাকলে জার্মানিতে ব্যাচেলরে সরাসরি ভর্তি হওয়া সম্ভব, স্টুডেন্টকলিগ করা ছাড়াই।

আপডেটঃ এপ্রিল, ২০১৭

জার্মানিতে বাংলাদেশের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৬ থেকে বেড়ে এই বছরে ১৪৬ এ দাঁড়িয়েছে। প্রায় সব ইউনিভার্সিটি/প্রতিষ্ঠান H+ স্ট্যাটাসধারী। শুধুমাত্র ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো H+- (স্ট্যাটাস অনিশ্চিত বা অনির্ধারিত)। নিচে আবারো নতুন করে এই মূহুর্ত পর্যন্ত জানা সকল স্বীকৃত বাংলাদেশী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা এখানে দেয়া হল।  Continue reading

কিভাবে বাংলায় লিখবেনঃ মোবাইল ফোন বা পিসিতে

Featured

 

জার্মানিতে আসতে চায় যারা, এদের জন্য জার্মান এমব্যাসি নিয়ম করে বলল, জার্মান শেখ নইলে ভিসা দেব না। কিংবা বলা হল, জার্মান শেখ, নাহলে স্পাউস ভিসা দেব না! ফলাফল, সবাই খেয়ে না খেয়ে জার্মান শিখতে শুরু করেছে!

বাংলা শিখলে, প্রতিদিনের কাজে ব্যবহার করলে কেউ বাহবা দেয় না – এটা বুঝতে পারি খুব। গ্রুপে খুব প্রয়োজনীয় প্রশ্নটা একটু কষ্ট করে অভ্র দিয়ে বাংলায় লিখতে হবে – সেই কারনে দেখি ছেলেপেলে প্রশ্ন করতেই ভয় পাচ্ছে। এদিকে ভুলে ভরা ইংরেজি দিয়ে প্রশ্ন করে ওয়াল ভর্তি। মোবাইলেও চাইলে বাংলা লেখা যায়, এবং পড়াও যায়। এমনিতে দামি মোবাইলের (বিশেষ করে সামনে “আই” শব্দটা থাকলে) পেছনে সবাই দেদারে টাকা খরচ করে। ইচ্ছে থাকলে বাংলা লেখার জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়ার যোগার করে নিতে সমস্যা হবার কথা নয়। Continue reading

দশটি ধাপে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা

Featured

 

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষায় আসতে চাই, জানি না কোথায় শুরু করব!

এই পোষ্টটিতে আমরা চেষ্টা করেছি, মাত্র দশটি ধাপের মাধ্যমে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার্থে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদেরকে একটি সম্পূর্ণ গাইডলাইন উপহার দেবার। তোমরা চাইলে মাঝখান থেকেও যেকোনো একটি ধাপ থেকে শুরু করতে পার। এই ধাপগুলো ব্যাচেলর, মাস্টার্স বা পিএইচডি সকল লেভেলের ছাত্রছাত্রীদেরকে সাহায্য করতে পারবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

যেকোন প্রশ্নের জন্য বিসাগ তো থাকছেই পাশে।

Continue reading

চিঠি

 

দেশে থাকতে অনেক গল্প শুনেছি অনেক কিছু পড়েছি জার্মানদের সম্পর্কে। তাঁরা অনেক ভদ্র-সভ্য জাতি, অনেক বন্ধু সুলভ, অনেক উপকারি। এখানে আসার প্রথম দিন থেকেই আমি এ গুলো বুজতে পেরেছি। নতুন জায়গা, নতুন পরিবেশ, ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম কানুন যার কোন কিছুই জানি না। চলা ফেরা করতে একটু অসুবিধা হওয়ার কথা, কিন্তু আমার কাছে সেরকম কিছু মনে হচ্ছে না। দেশে থাকতে সাহায়্য চেয়ে ও পাওয়া যায় না, আর এখানে জার্মানদের কাছে সাহায্য চাওয়া লাগে, তাঁরা নিজেরাই এসে সাহায্য করে। এখন ও
পর্যন্ত কতবার সাহায্য নিয়েছি তা গুনে রাখি নি। খুব অবাক লাগে এই ধরনের ব্যাবহার। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে ওদের কাছ থেকে যদি এটা শিখতে পারতাম তাহলে আমি ও কোন সাহায্য করার সুযোগ পেলে মিস করতাম না।

আজ একটা সুযোগ পেলাম। ক্যাম্পাসে যাব এমন সময় দেখি চিঠি ডেলিভার করতে এক মহিলা এসেছে ডরমে। সে রুম নাম্বার খুজতেছে। সব গুলো রুমের কলিং বেল এবং লেটার বক্স এক সাথে। নাম দেখে খুজে বের করতে তার একটু ঝামেলা হচ্ছিল। এটা বুঝতে পারার পর বললাম, আমি কি তোমাকে সাহায্য করতে পারি (ইংরেজিতে, জার্মান জানি না)। সে আমার নাম টা বিশ্রি ভাবে উচ্চারন করে বলল,আমি এর রুম খুজতেছি, ওর কলিং বেল বা লেটার বক্স কোন টা। বললাম তোমার হাতে যে চিঠি টা, ওটা আমাকে দিতে পার। আমার কথা শুনে মহিলা বেশ অবাক। এর মাঝেই আমি আমার আই ডি কার্ড টা বের করে দেখালাম এবং বললাম চিঠি টা আমার। এর পর মহিলা এক গাল হাসি দিয়ে কিছুক্ষন জার্মান বকতে থাকল। শেষের একটা লাইন বুঝলাম। গুটেন টাগ, চুস (শুভ দিন, বিদায়)।

এখানে আরেক টা ঘটনা ঘটতে পারত। আমি তাকে দেখে ও সোজা চলে গেলাম, মহিলা আমাকে কলিং বেল টিপে পেল না, এবং চিঠি টা লেটার বক্স এ ঢুকল না তাহলে আমাকে পোস্ট অফিস থেকে চিঠি টা আনতে হত। (যদি চিঠি টা লেটার বক্স এ ঢোকান যায় তাহলে কোন সমস্যা নেই) (চিঠি তে একটা হেডসেট+একটা ফিটনেস ব্যান্ড ছিল)।

আমাদের মনে রাখা উচিত আমাদের কাছে তাই ফিরে আসে যেটা আমরা দিয়ে থাকি।

#BSAAG_Life_in_Germany

 

Md Akter Hossain Badal

Zweibrucken, Germany

আমার ভিসা ইন্টারভিউ ২০১৭

 

আমি ভিসা পেয়েছিলাম মার্চের ১৩ তারিখে, জার্মানি এসেছি ১৭ তারিখে। অনেক দিন ধরে গ্রুপ এ আসা হয় না। ( অজুহাত ৩ টা আছে, ১। ব্যাস্ততা ২। কম্পিউটার ছিল না, ৩। আমার অলসতা।) এর জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
গ্রুপে এ অনেক কিছু লেখার ইচ্ছা আছে আমার অভিজ্ঞতা নিয়ে। ঠিক কোথা থেকে শুরু করব বুঝতে পারছি না। তাই আজ ভিসা ইন্টারভিউ দিয়ে শুরু করলাম।

ইন্টারভিউ ছিল সকাল ৮ঃ৩০ এ, আমরা (সাথে আমার প্রিয় আলামিন ভাই ছিল) পৌছালাম ৭ঃ৩০ এ। এমব্যাসিতে ডুকলাম ৮ঃ২০। সব ডক সাজিয়ে আগেই রাখা ছিল, তারপর ও আবার চেক করে জমা দিলাম। অপেক্ষা করতে লাগলাম। কিছুক্ষন পর ১ নং কাউন্টার থেকে ডাক আসল। ঢুকেই দেখি সুন্দরী মেডাম। মেডামের কথা অনেক শুনেছি। মেডামকে দেখে মনে হল জার্মানি জাওয়ার স্বপ্ন, স্বপ্ন হয়েই থাকবে। ভিসা ইন্টারভিউ ডেট নেয়ার দিন থেকে প্রতিদিন দোয়া পড়তাম যেন মেডাম না পড়ে। কপালে ছিল কি আর করা, মেডাম এর কাছেই পড়লাম।

রুমের মধ্যে যাওয়ার পর মেডাম ফিংঙ্গারপ্রিন্ট নিল (সম্ভবত ১০ আঙ্গুলেরই), তারপর প্রশ্ন করা শুরু করলেন

1. What’s your name?
আমিঃ নাম বললাম
2.You have applied for Bachelor or Master?
আমিঃ Master
3. In which university are you going?
আমিঃ Kaiserslautern University of Applied Sciences, Zweibrücken.
4. What´s the course name and course moudle.
আমিঃ Financial Services Management. Moudle ও বললাম (1st semester and 2nd semester মিক্স করে ফেলেছিলাম। অথচ এটা খুব ভাল করে মেমরি করা ছিল।)
5. How many credit points?
আমিঃ 90 ECTS. (এখানে আমি একটু বেশি বুজেছিলাম, ECTS বলতে গেলাম। শুধু মাত্র ৯০ বললেই যথেষ্ট ছিল। এখন ECTS এর ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে পরবর্তী প্রশ্নে, কপাল ভাল জানা ছিল)
6.What is ECTS?
আমিঃ European Credit Transfer and Accumulation System
7.What was the major in your Bachelor?
আমিঃ Finance
8.What is Finance?
আমিঃ ** In short Finance deals with money** (এটা প্রায় ৫ বছর আগে মুখস্ত করা)
9. Could you please elaborate this?
আমিঃ মনে যা এসেছিল বললাম, শেষে যোগ করে দিলাম special for Bank. (মনে হল আমার উত্তর মেডামের কাছে সঠিক মনে হয়েছে।)
10.Can I see your transcript of record?
আমিঃ transcript দিলাম
11. What is risk management?
আমিঃ কি উত্তর দিয়েছিলাম নিজে জানি না।
12. What is portfolio?
আমিঃ এটা মোটামুটি সঠিক দিয়েছিলাম।
13. What is portfolio management?
আমিঃ এটার উত্তর ও ঠিক ছিল।
14.What is balance sheet?
আমিঃ বললাম পড়েছিলাম, এখন ভুলে গেছি।

পেমেন্টের এর স্লিপ দিল, ব্যাংক এ পেমেন্ট করে আবার আসলাম। আরো ২-৩ টা প্রশ্ন করেছিল। (এখানে ও আর একবার বেশি বুঝেছিলাম, অন্যথায় প্রশ্ন করত না)

সর্বশেষ আমাকে ইনরোলমেন্ট ফি এবং ব্লক অ্যাকাউন্ট এর কনফার্মেশন জমা দিতে বলেছিল কিছু দিনের মধ্যে।

সর্বমোট ১৬-১৭ টার মত প্রশ্ন করেছিল। একটার উত্তর মোটে দিতে পেরেছিলাম না, ২-৩ টার উত্তর জানি না কি দিয়েছিলাম, বাকি গুলো সঠিক ছিল।

বি দ্র: মেডাম সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছিলাম, উনি যদি এই মেডাম হয়ে থাকে তবে তা সঠিক না। এই মেডাম তো দেখতে অনেক সুন্দরী এবং অনেক সুন্দর করে ইংরেজি বলে।

#BSAAG_Master
#BSAAG_Business
#BSAAG_VISA #BSAAG_VISA_Interview

 

Md Akter Hossain Badal

Zweibrucken, Germany

জার্মানির অবিশ্বাস্য পুনরুত্থানের গল্প

 

বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন কে? জার্মানি। আরেকটু বাড়ালে বলা যায় সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে ধারাবাহিক দলও এই জার্মানিই। টানা ছয়টা সেমিফাইনাল খেলেছে তারা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের। এই যাত্রার শুরু হয়েছিল দারুণ এক লজ্জা থেকে। হ্যাঁ, ইউরো ২০০০ এর লজ্জা। সেবার জার্মানি গ্রুপ পর্বের তলানীতে থেকে প্রথম রাঊন্ডেই বিদায় নেয়। পুরো গ্রুপ পর্বের খেলায় মাত্র এক গোল করতে পেরেছিলো তারা, তাও রোমানিয়ার সাথে এবং তাতে লাভ হয়নি, ম্যাচটি ড্র হয়েছিল। এটা যদি হয় সবল ফিনিক্সের ছাই হয়ে যাওয়া, তবে তার পরের এক যুগ ভস্ম থেকে পুনরুত্থানের।

২০০০ সালের ইউরো থেকে বিদায়

নব্বইয়ের দশকে কোচ ভেরতি ভগস প্রায়ই বলতেন জার্মানির নতুন ট্যালেন্ট ফ্লো কমে আসছে, কেউ তেমন গা করতেন না। এই ভেরতি ভগস ‘৯৬ এ জার্মানিকে ইউরো জেতান। দেশ যখন আনন্দে ভাসছে, তখনও তিনি বললেন একাডেমি বাড়ানো বা ট্যালেন্ট তুলে আনার কথা। ফেডারেশন আবারও গা করলো না, সদ্য ইউরো সেরা বলে কথা। তবে ফলতেও বেশী সময় লাগলো না। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে কোয়ার্টারে ক্রোয়েশিয়ার সাথে ৩-০ তে হেরে যায় জার্মানি, আসল বিপদ আসে নি তখনো। ২০০০ ইউরোতে কোনো ম্যাচ না জিতে তলানিতে থেকে গ্রুপ থেকেই বাদ পরে তারা। এবার আসলেই টনক নড়লো, হাতে নিলো বিশাল প্রকল্প পুরো স্ট্রাকচার ঢেলে সাজানোর।

ভেরতি ভোগস

জার্মান ফুটবল এসোসিয়েশন একটা কথা প্রায়ই বলে যেটা পুরো বর্তমানকে ব্যাখ্যা করে দেয়, “কোনো স্কিলফুল বা ট্যালেন্ট প্লেয়ার যদি আল্পসের পাদদেশেও জন্মায়, আমাদের সিস্টেম তাকে ঠিকই বার্লিনে নিয়ে আসবে!” কিভাবে? জার্মানিতে বর্তমানে আঞ্চলিক ফুটবল একাডেমি ৩৬৬টি।

একটু সংখ্যার মাহাত্ম্যে আসি। জার্মানির আয়তন বাংলাদেশের ২.৫ গুণ। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার হিসেবে ওখানে জেলা ধরি ৬৪*২.৫=১৬০টি। তাদের আঞ্চলিক একাডেমি ৩৬৬টি। অর্থাৎ আপনি যে জেলায় বসে আছেন, ধরা যায় এতটুকু এলাকার জন্য জার্মানিতে প্রায় দুইটি করে একাডেমি আছে। এই ৩৬৬টি একাডেমিতে ফিফা লাইসেন্সধারী কোচ আছে ১৩০০ জন। অর্থাৎ আপনার জেলার মতো জার্মানির এই সমান জায়গায় ফিফার লাইসেন্সড কোচ আছে চারজন যারা কেবল ট্যালেন্ট তুলে আনে। এখান থেকে মোস্ট স্কিলড প্লেয়ারগুলোকে নেক্সট হায়ার একাডেমিতে পাঠানো হয় যদি না কোনো ক্লাব এরই মধ্যে না নেয়। এমন হায়ার একাডেমি সংখ্যা ৫২টি! খোঁজ নিলে দেখা যাবে এমন কাছাকাছি তবে কম কার্যকর স্ট্রাকচার আরো কিছু দেশে আছে। তবে ফারাক কোথায়?

ফারাক হলো, জার্মান জাতীয় দলে কোচ স্ট্যাবিলিটি। বর্তমান কোচিং স্টাফ-সেট এর বেইজটা আসে ২০০৪ এ ক্লিন্সম্যান কোচ হওয়ার পর থেকেই। এর আগে জার্মানিকে সবাই মেশিন হিসেবেই বেশী জানত, খেলায় পাওয়ার থাকত বেশী, সৌন্দর্য কম। ক্লিন্সম্যান জার্মানির পুরো ধাচটাই বদলে দেন। জার্মানির আক্রমণাত্মক খেলা দেশে বিদেশে ব্যাপক সমাদৃত হয়। ২০০৬ এ ক্লিন্সম্যান চলে গেলে সবাইকে অবাক করে ফেডারেশন নিয়োগ দেয় অখ্যাত তাঁর সহকারী বর্তমান বিশ্বকাপ জয়ী জোয়াকিম লো কে, যেন ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

জার্মান খেলা আগে অতিরিক্ত পাওয়ার, লং বল বেজড থাকায় খাটো, শারীরিকভাবে দুর্বল কিন্তু স্কিলফুল প্লেয়ারদের উঠে আসতে কষ্ট হতো। ক্লিন্সম্যান-লো এর খেলার ধরনে লং বল, পাওয়ার ফুটবলের চেয়ে স্কিল বেশী প্রাধান্য পাওয়ায় জাতীয় দলে ওজিল, গোতজে, লাম রা সহজেই চান্স পেতে থাকে। আর একাডেমিতে তরুণ খেলোয়াড়দের জাতীয় দলের আদলেই খেলানো হয়। যেহেতু ২০০৪ থেকে এখনো একই ফিলসফি জাতীয় দলে চলছে, তাই একাডেমিগুলোও সহজে জাতীয় দলের আদলে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান ফুটবলকে একটু মাথা খাটিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে যে, একজন মেসি রোনালদোর মতোই সমান গুরুত্ববহ একজন পিরলো, জাভি বা ক্রুস (যথাক্রমে ইতালি ২০০৬, স্পেন ২০১০ ও জার্মানি ২০১৪ বিশ্বকাপের নেপথ্য নায়ক) এর মতো সেন্টার মিডফিল্ডার। গত দশকে স্পেন ছাড়া জার্মানির মতো এত ক্লাসিক সেন্টার মিডফিল্ডার, প্লে-মেকার কেউ ডেভেলপ করেনি। জাতীয় দলের খেলাও পাসিং বেজড, একাডেমিতেও পাসিং বেজড খেলা প্রেফার করা হয়, আর উঠেও আসছে দারুণ সব প্লে-মেকার।

জার্মান জাতীয় দল

সব কি এত সহজ ছিল? না। জার্মানির ট্যালেন্ট তুলে আনার প্রক্রিয়া ২০০০ এর আগে এতটাই বাজে ছিল যে ২১ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশী গোলদাতা ক্লোসা ৫ম বিভাগে খেলত! ২০০০ এর সেই ধাক্কার পর সবাই যখন ইয়ং প্লেয়ার ডেভেলপমেন্টের জন্য সচেতন হয়, তখনই একটা শাপে বর হয়ে আসে টিভি  ক্রাইসিস। কোনো এক ঝামেলায় টিভি বিজ্ঞাপন স্বত্ব নিয়ে ক্লাবগুলা বিপদে পড়ে যায়। বলা বাহুল্য টিভি স্বত্বের টাকা ক্লাবের বিশাল টাকার উৎস। এই ঝামেলার জন্য ক্লাবগুলোয় টাকার ফ্লো কমে গেল, বায়ার্ন বাদে আর কেউ টাকা দিয়ে প্লেয়ার কেনার অবস্থায় ছিল না। বাধ্য হয়ে নিজেদের স্থবির একাডেমি চালু করে ট্যালেন্ট তুলে আনায়। দ্বিতীয়ত কারণ ছিল জাত্যাভিমান। জার্মানির ক্লাবগুলো ইংল্যান্ড বা ফ্রান্সের মতো ব্যক্তি মালিকানাধীন নয়, সমর্থকদের টাকায় চালিত। ফলে ফ্যান বেইজড কালচার খুব শক্ত। স্পেন বা ইংল্যান্ডে প্রায়ই দেখা যায় জাতীয় দলের চেয়ে ক্লাবের টান বেশী। জার্মানিতে তাঁর উল্টো। একজন জার্মান এলাকার যে ওই এলাকার ক্লাবের সদস্য সে তাঁর ক্লাব ভালো করলে যতটা খুশি হয়, ঠিক ততটাই খুশি হয় তাদের একাডেমির একজন জাতীয় দলে ভালো করলে। সব মিলিয়ে ফ্যান বেজড কালচার, জাত্যাভিমান একটা বড় কারণ ছিল এবং আছে।

তৃতীয় এবং অবশ্যই নিয়ম। সব জার্মান ক্লাবকেই প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। ফেডারেশন প্রতিটা ক্লাবের ইয়ুথ একাডেমি থাকা এবং কিছু নিয়ম কানুন এমন শক্ত করে দিল যে ক্লাবগুলোও বাধ্য হলো। ফলে কাজটা ত্বরান্বিত হয়। এমন চেষ্টা ব্রাজিলে করেও ক্লাবগুলোর দ্বন্দে আর করা হয়নি। জার্মানিতে কিভাবে হলো? কর ও ব্যাঙ্ক ঋণ সংক্রান্ত এক ঝামেলার সময় বায়ার্ন তাঁর প্রবল প্রতিদ্বন্দী বরুশিয়া ডরটমুন্ডকে ঋণখেলাপী হওয়া থেকে বাঁচায়- এমন কিছু আরো ছোট ঘটনার জন্য পারস্পরিক অবিশ্বাস অন্যান্য দেশের মতো নয়। বর্তমানে আরেকটা সুবিধা হচ্ছে, বায়ার্নের একাধিপত্যে লীগ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বায়ার্নের লেভেল অন্যদের ছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে অনেকাংশে। একটা দল যখন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতায় থাকে, সে পরীক্ষিত প্লেয়ারদের বেশী খেলায়, তরুণ খেলোয়াড় খেলানোর ঝুঁকি নেয় না। গত পাঁচ বছরে বায়ার্ন যে লেভেলে পৌছেছে, লীগে কম্পিটিশন কম, তাই ২, ৩, ৪, ৫ র‍্যাঙ্কের ক্লাবগুলোও যথেষ্ট তরুণ প্লেয়ার খেলাতে সুযোগ পায়। সহজ ইমিগ্রেশন পলিসির কারণে তুরস্ক, পোল্যান্ড বা আফ্রিকান অরিজিনের বেশ অনেক প্লেয়ার ইয়ুথ র‍্যাঙ্কে রয়েছে। ক্লোসা, পোদোলস্কি, ওজিল, বোটেং, গুন্দোগান, খেদিরা এদের মতো অনেক বিখ্যাত জার্মান জাতীয় দলের অরিজিন নন-জার্মান। অথচ পিওর ব্রাজিলীয় একজন প্লেয়ার যদি খুব তরুণ বয়সেই ইউরোপে খেলতে চলে আসে তাদের লীগ না খেলেই, তবে তাকে অতটা আপন করে অনেক সময়ই দেখা হয়না, এমন উদাহরণ অনেক আছে।

ফ্রেইবারগ ক্লাবটার একটা উদাহণ টানা যায়। ছোট ক্লাব, তলানির দিকেই থাকে। পুরো সিজন বাজেট ১৭ মিলিয়নের আশেপাশে, রিয়ালে এক রোনালদোর বেতনই ১৫ মিলিয়ন! এত প্লেয়ার বাইরে থেকে কেনা সম্ভবও না তাদের। উপরন্তু ভৌগোলিক অবস্থানও সীমান্তবর্তী। তাদের ২৩ জনের দলের ১৬ জনই জার্মান যার ১০ জন আবার তাদের একাডেমির। সিজনের লাস্ট ম্যাচটা জিতলে তারা ইউরোপা খেলতে পারত- এমন অবস্থায় জার্মানির জীবন্ত কিংবদন্তী কাইজার ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার তাদের সমর্থনে স্টেডিয়ামে যান, কেবল তাদের এই অল্প সামর্থ্যের মধ্যে একাডেমির মাধ্যমে উপরে উঠার প্রচেস্টাকে সমর্থন দেয়ার জন্য। যদিও তারা হেরে যায় ওই ম্যাচ, কিন্তু ফ্রেইবারগ এখন অনেকের কাছেই একটা উদাহরণ। ২০০০ সালের পর এমন অনেক ক্লাব উপরে উঠতে চেয়েছে কেবল টাকার জোরে নয়, নিজেদের একাডেমির গরজে, যেটা বদলে দিয়েছে জার্মান ফুটবল।

ফ্রেইবারগ ক্লাব স্কোয়াড

জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের বর্তমান প্রধান গ্রিন্ডেল যখন দায়িত্ব নেন এ বছর, তৃপ্তির চেয়ে চিন্তাই ছিল বেশী যে কিভাবে এই সিস্টেমের উন্নতি করবেন যেটা অলরেডি স্বয়ংসম্পূর্ণ! উনার ভাষায়, “২০০০ সালে যদি এই চেয়ারে বসতাম, তবে চিন্তায় শেষ হয়ে যেতাম কিভাবে এত বড় পুনর্গঠন করব। এখন চিন্তায় আছি কিভাবে, আর কোন দিকটায় একটু উন্নতি করা যায়! আগে আমরা উপদেশের জন্য অনেক দেশের কাছে গিয়েছি, এখন তারাই আসে!” এটাই জার্মানির পুনরুত্থানের সারমর্ম।

২০১৪ সালের বিশ্বকাপ তাদের পরিকল্পনা, ধৈর্য, টানা সেমিফাইনাল হারার পরেও বিশ্বাস অটুট রেখে চলার ফসল। ছাই থেকে ফিনিক্সের নবরুপের আসল পরিণতিই এই বিশ্বকাপের মাধ্যমে এসেছে। এই সাফল্যের প্রতিটা প্রশংসার যোগ্য দাবিদার তারা তাদের এই পরিকল্পনার সফল রুপায়নের জন্য। আর বিশ্ব সবসময়ই বিজয়ীকেই কুর্নিশ করে, জার্মানি সে যোগ্য বিজয়ী।

ফাইনালে গোলের পর গোতজে

লিখেছেনঃ Kaushik Bhadra

উৎসঃ রোয়ার বাংলা

তথ্যসূত্র

১। theguardian.com/football/2015/sep/05/germany-football-team-youth-development-to-world-cup-win-2014

২। thesportster.com/soccer/top-15-german-internationals-who-couldve-played-for-other-nations/

৩। fourfourtwo.com/features/how-germanys-awful-euro-2000-forced-a-mass-restructure-and-why-it-wouldnt-work-england

৪। theguardian.com/football/2013/may/23/germany-bust-boom-talent

৫। huffingtonpost.co.uk/dan-tickner/germany-football-world-cup_b_5598613.html

৬। worldsoccerperspective.wordpress.com/2014/05/13/the-german-football-revolution/

জার্মান রাজনীতি

 

ঘুম ঘুম চোখে সকাল বেলা বাড হনেফের স্টেশনে ট্রাম থেকে নেমেই দেখি সামনে দাঁড়িয়ে এক মহিলা। হাসিমুখে জিজ্ঞেস করলেন, ফ্রুশটুক, মানে নাশতা লাগবে? দেখলাম তার হাতে একটা কার্টনে করে নাশতার প্যাকেট আর আপেল। ফাও নাশতা নিতে সেকেন্ডের বেশি সময় লাগলো না। আপেলও নেন একটা, বললেন তিনি। সেটাও নিলাম। ”১৪ তারিখ লান্ডটাগের (জার্মানির রাজ্য সংসদ) নির্বাচন, ভুলবেন না যেন” আপেল দিতে দিতে মনে করিয়ে দিলেন। এবার ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম। “আরে আপনার ছবি তো আমি দেখেছি, আপনি কি সিডিইউর প্রার্থী?” মহিলাও হাসিমুখে মাথা নাড়লেন। তারপর দ্রুত আরেকজনের দিকে এগিয়ে গেলেন।
পরের দিন সকালে একই কাহিনী। তবে এবার এসপিডি, জার্মানির আরেক বড় দল। তার প্রার্থী আর সমর্থকেরা দেখি ট্রাম স্টেশনে নাশতা বিলিয়ে যাচ্ছে আর সাথে লিফলেটও ফ্রি। আমি তিন দিন সকালের নাশতা লান্ডটাগ ইলেকশনের ক্যাম্পিং এর সুবাদে মুফতে পেয়েছি।
গত সপ্তাহে ইলেকশনও হয়ে গেছে। নর্থ রাইন রাজ্যে বরাবরই এসপিডির দখল থাকে। তবে এবার সিডিইউর জয়জয়কার।

অফিসের কলিগকে জিজ্ঞেস করলাম কোন দলকে ভোট দিয়েছে, সিডিইউ, এসপিডি দুটো দলেরই সমর্থক আছে। আমার দুই প্রতিবেশী বাসায় এসেছিলেন কাল। একজন গ্রিন পার্টি আরেকজন লিংক মানে বামকে ভোট দিয়েছে। আমার নিচের তলায় এক বৃদ্ধ থাকেন। কিছুদিন আগে কথা প্রসঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন এবারের নির্বাচনে তিনি এএফডি, মানে যারা মুসলিম বিরোধী বলে পরিচিত তাদের ভোট দিবেন। আমার সাথে এটা নিয়ে আবার হাল্কা বাতচিতও হয়েছে তার। তবে এরপরও মাঝে মধ্যে আমার বাসায় খাবার নিয়ে আসতে তার কোন সমস্যা হয় না।

অদ্ভুদ লাগে, কত দল আর তাদের সমর্থক অথচ একইসঙ্গে বসবাস। নেই কোন বিদ্বেষ কিংবা ঘৃণার ছড়াছড়ি। এদেশেও আদর্শের রাজনীতি চলে, কিন্তু কোন চেতনার ব্যবসা নেই। এখানেও রক্ষণশীল আর উদারপন্থীদের মধ্যে ব্যবধান বিরাজমান। রয়েছে তর্ক আর বিতর্ক। রাতের টক শোগুলোতেও চলে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা। কিন্তু কে কাকে ভোট দিলো সেটা কেউ লুকায় না। কারণ জানে এজন্য তার চাকরি যাবে না। তার নামের আগে পরে কোন বিশেষণ জুড়ে দেয়া হবে না।


অথচ এই দেশেও দেশপ্রেম আছে। কিন্তু নেই চেতনার নামে ঘৃণাবাজি। নেই কোন ব্যক্তিপূজা। উগ্র জাতীয়তাবাদ কতটা ভয়ঙ্কর জার্মানদের চেয়ে বোধহয় বেশি আর কেউ জানে না। তাই একটা সহাবস্থানের পরিবেশ তারা কেবল রাজনীতিতেই নয়, সমাজের সব জায়গাতেই তৈরি করে নিয়েছে।

কিন্তু এই সহাবস্থানের সুযোগেই আমাদের দেশী ভাইয়েরা তাদের রাজনীতি এখানে আমদানীর সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশের কমিউনিটিতে এই বিভেদের রাজনীতির নোংরামি সুযোগ পেয়ে এখানকার সমাজেও ছড়িয়ে পড়ে। যার প্রমাণ মাঝে মধ্যেই ফেসবুকে দেখা যায়। আমি ভাবি এই দেশে গণতন্ত্রের নুন খেয়ে যারা নিজেদের মধ্যে ফ্যাসিবাদী চেতনা লালন করে তারা কত বড় অকৃতজ্ঞ!! এদের ভাগ্য ভালো যে এদেশের মানুষ বাংলা জানে না। নয়তো তারা জানতো দেখতে নিরীহ এই বাঙালী ব্রাদার্সরা আসলে কী চিজ!!

লিখেছেনঃ Riazul Islam

জার্মানির ডায়েরিঃ২২ “অংক ও কিছু আনন্দ”

 

„বাবা, আমি একটা অংক পরীক্ষায় তৃতীয় হয়েছি!“

„ও, আচ্ছা। তাই নাকি!“

কাজ থেকে ফিরে কিছুটা ক্লান্ত থাকি। এই সময়ে ঘরে ফিরলে তিন মেয়ে তাদের দিনের নানাবিধ কর্মকাণ্ড নিয়ে আমাকে ঘিরে ধরে। এই সময়টাতে একজনকে বেশি উৎসাহ দেখালে অন্যজন তার দিকে দৃষ্টি ফেরাতে ব্যস্ত হয়।

বড় বোনের উৎসাহ দেখে রিহা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল, আমিও অংকে ভাল। আমার ক্লাস টিচার বলেছে। Continue reading